পবায় উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুই প্রকৌশলী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা পুলিশ দুই প্রকৌশলীকে আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। করোনার বিধি-নিষেধ ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পবার নওহাটা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুমন রানা ও পবা থানা শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বাগমারা উপজেলায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে ফেরার পথে তাঁদের আটক করার প্রায় ৩০ মিনিট পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের অর্থায়নে বাগামারায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলা ভবন নির্মাণের একটি কাজ চলছে। ওই স্কুলের ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ পরিদর্শন শেষে সহকারী প্রকৌশলী সুমন রানা ও উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান একটি প্রাইভেট কারযোগে রাজশাহী শহরে ফিরছিলেন। এসময় তাঁরা পবার নওহাটা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছামাত্র সেখানে এসএআই অলিউল হকের নেতৃত্বে টহল পুলিশের দল তাঁদের গাড়িটি থামায়।
পুলিশ ওই দুই কর্মকর্তাকে জানায়, বিকেল ৫টার পরে বাইরের কোনো মানুষ শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতিউত্তরে ওই দুই কর্মকর্তা জানান, তাঁরা একটি উন্নয়নকাজ পরিদর্শণ শেষে শহরে ফিরছেন। কিন্তু এএসআই অলিউল হক ওউ দুই প্রকৌশলীকে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি তাঁদের ছাড়তে পারবেন না। এরপর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় ওই দুই প্রকৌশলীকে। শেষে নগর পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ফোন পাওয়ার পরে ওই দুই প্রকৌশলীকে ছাড়তে বাধ্য হন এএসআই অলিউল হক।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আটকের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সামান্য কিছু ভুলবুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেটি নিরসন হয়েছে।’
রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে ফোন করে জানান, উন্নয়নকাজ শেষে দুই প্রকৌশলীকে আটকের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।  আমি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ফোন করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা তো সরকারের উন্নয়কাজে করোনার মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু পুলিশের একজন কর্মকর্তা যদি এটা না বুঝে আমাদের হয়রানি করে, তাহলে বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।
তবে পবা থানা এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, এস আই অলিউল একজন মস্তিষ্ক বিকৃতি পুলিশ অফিসার। নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে  অর্থ আদায়,ধরা-ছাড়া অর্থ বানিজ্য ,মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতাসহ নানান অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এসআই অলিউল ‌। তার নানা অপকর্মের তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *