রামেক হাসপাতালে অক্সিজেনের চরম সঙ্কট,  ওটি থেকে রোগী ফেরত

রাজশাহী প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডে এখন শয্যা সংখ্যা কাগজে-কলমে ১২০০টি। কিন্তু প্রতিদিন এখানে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্তত দেড় হাজার। এরমধ্যে ৬ জুন রোববার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ৫টি করোনা ওয়ার্ডে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ২২৪ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন  প্রত্যেককেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। কিন্তু অক্সিজেন সঙ্কটে সেটি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। এতে রোগীর চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে ব্যাপক হারে।
শুধু করোনা রোগীদের জন্যই নয়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে। ৫ জুন শনিবার ও ৬ জুন রোববার অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে অপারেশন থিয়েটারেও রোগীর অপারেশন করাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে চিকিৎসকদের।
এছাড়া একাধিক রোগীকে অপারেশন থিয়েটার থেকেই ফেরত দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের দায়িত্বরত একাধিক চিকিৎসক।
হাসাপাতাল সূত্র মতে, গত বুধবার রামেক হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ২০৫ জন। তার আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ২১৬ জন। হাসপাতালের গতকাল সকাল পর্যন্তকরোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ জন। আগেরদিন বুধবার মারা গেছে ৭ জন। তার আগেরদিন মঙ্গলবার মারা গেছে ১২ জন।
রামেক হাসপাতাল সূত্র মতে, এ হাসপাতালের ২৯, ৩০, ১৬, ৩ ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫টি ওয়ার্ডে গতকাল সকাল পর্যন্ত রোগী ছিল ২২৪ জন। যাদের সবারই অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে। কিন্তু করোনা ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে প্রত্যেককেই ঠিকমতো অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছে না। যার যখন সমস্যা বেশি হচ্ছে, অক্সিজেন সাপোর্টকৃত শয্যার কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে সেখানে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। তারপরেও অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে ঠিকমতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশনা করার শর্তে বলেন, ‘রামেক হাসপাতালে এই মুহূর্তে চরম সঙ্কট চলছে অক্সিজেনের। যেটি যে কোনো সময় আরও ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি রোগীদের বেডও ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। অক্সিজেন না পেয়ে অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার পরেও বাইরে চলে যাচ্ছে। আবার কিছুটা সুস্থ হলেই আমরা রোগীদের হাসপাতাল থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। র্পূণাঙ্গ সুস্থ হওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না রোগীরা।’
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আবু নাসের নামের এক রোগী স্বজন বলেন, ‘আমার রোগীর মাঝে মধ্যেই অক্সিজেন লাগছে। কিন্তু সেটি ঠিকমতো ওয়ার্ডে সরবরাহ করতে পারছেনা। ফলে আমরা কঠিন চিন্তার মধ্যে আছি। অবস্থা যদি বেশি খারাপের দিকে যায়, তাহলে সে সময় অক্সিজেন না পেলে রোগীকে বাঁচানো যাবেনা।’
 হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটরের একাধিক চিকিৎসক জনান, গত শনিবার সকাল থেকে অপারেশন থিয়েটরেও অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেয়। এতে করে একাধিক রোগীকে আবার ওয়ার্ডে পাঠাতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। একেবারে জরুরী রোগী ছাড়া অক্সিজেনের কারণে গতকাল কোনো গুরুত্বপূর্ণ রোগীকে অপারেশন করা যায়নি।’
 রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত কয়েকদিন ধরেই করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে। এতে করে ৫টি ওয়ার্ড ভরে গেছে। নতুন রোগীর চাপ বাড়লে আরও ওয়ার্ড খোলা যাবে। কিন্তু অক্সিজেন তো চাইলেও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার আইসিইউ সঙ্কটও রয়েছে চরম। নতুন রোগীকে সহজে আইসিউ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।’
তিনি আরো বলেন, মূলত যাদের অক্সিজেন সেচুরেশন কমে যাচ্ছে তারাই হাসপাতালে ভর্তি হতে আসছেন। ফলে শতভাগ রোগীকেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। সেন্ট্রাল লাইনে অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুদ রাখা হয়েছে। আরো একটি ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। অক্সিজেনের জন্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডে বাংলাদেশের অক্সিজেন ভর্তি রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে রোগী বাড়তে থাকলে অক্সিজেন নিয়েও সংকটে পড়তে হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *