রাজশাহীতে করোনা রোগি নিয়ে সক্রিয় দালাল চক্র

আবুল কালাম আজাদ : – রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জেলার গোদাগাড়ীর মোমিনুল ইসলাম( ৩০)করোনায় আক্রান্ত । চিকিৎসার জন্য করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির  অপেক্ষা করছেন। সঙ্গে আছেন মা আসমা বেগম ।
বাসায় হঠাৎ করে  শারীরিক অবস্থার অবনতি  হয় তার।  প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ৬ জুন রোববার  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেলা ১০টায় এসেছেন। কথা হয় দুপুর‌ ২ টায়  রোগীর মা আসমা বেগমের সাথে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন ৪ ঘণ্টা ধরে  জরুরি বিভাগের বারান্দায় ছেলের চিকিৎসার জন্য বসে আছি। ছেলের তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ছটফটানিত সহ্য করতে পারছিনা। একা এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছি।
কে একজন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন তার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিবেন। তার অপেক্ষায় কেটেছে ৪ ঘন্টা
মমিনুলের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট থাকায় তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। হাসপাতালে বেড ও আইসিইউ এর জন্য হাহাকার। এর মধ্যেই সিরিয়াল আসলো ভর্তির ২০ নং ওয়ার্ডে।
হাসপাতাল‌কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাসপাতালের বাইরে ও বারান্দায় যথেষ্ট বেড করা হয়েছে। বেড়ের সঙ্কট নেই। কিন্তু কারা রোগিদের জানাচ্ছেন বেড নেই! হাসপাতালে  গত শনিবারও এমন ঘটনা ঘটেছে কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগি ও তাদের স্বজনদের সাথে। হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ দৌড়াদোড়ির পর তারা করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হতে পেরেছেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র বলছে, করোনা রোগি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ক্লিনিকের কিছু রোগী ধরা দালাল চক্র  অপপ্রচার চালাছে হাসপাতালের বেড নাই, ঠিকমত চিকিৎসা হচ্ছে না। ভালো চিকিৎসার কথা বলে রোগিকে তারা বাইরে নিয়ে ভর্তির চেষ্টা করছে।
অভিযোগ উঠেছে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত কয়েকজনকে ম্যানেজ করেই তারা এই কাজ করছে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগিদের জন্য যথেষ্ট বেড আছে।  জরুরি বিভাগ ও কিছু জায়গায় দুষ্ট চক্রের লোকজন এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যেই এমন অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে জরুরি বিভাগ থেকে বাদলি করা হয়েছে। তিনি জানতে পেরেছেন  কিছু ডে লেবারসহ হাসপাতালে কিছু লোক এমন জঘন্য কাজে জড়িয়েছে।তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের হাসপাতালের চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হবে। করোণা রোগি বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতালে বেড, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে । হাসপাতালেই যথেষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *