প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে মহানন্দা পূণর্ভবা নদীতে কুমাড়ে মাছ ধরছে ছেলেরা

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে মহানন্দা ও পূণর্ভবা নদীতে কুমাড় বেঁধে মাছ ধরছে ছেলেরা। মাস খানেক আগে উপজেলার মৎস্য বিভাগ নদী থেকে জেলেদের কুমাড় উঠানোর জন্য মাইকিং করে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন কিন্তু কেউ ওই প্রচারকে কর্ণপাত করেননি। এখনও ওই দুই নদীতে কুমাড় (ঘের) অসংখ্য রয়েছে। অথচ উপজেলা মৎস্য বিভাগ দেখে না দেখার ভ্যান করছে।
ওই নদীর এলাকাগুলো ঘুরে দেখার সময় বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, মহানন্দা নদীর পানিতে শত শত ঘের (কুমাড়) রয়েছে। কুমাড়গুলো বড়বড় ডালপালা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। নদীতে ¯্রােতের সময় ওই কুমাড়গুলোতে বাঁধা পেয়ে নদীর কিনারা (পাড়) মাটি কেটে চলে যায়, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। শতশত জমি ও আমবাগান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার লোকজন অনেক সময় বাঁধা দিলেও তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা এ কাজটি করে থাকে। ফলে স্থানীয় লোকজন অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রফিক নামে নদীর পাড়ের আরেকজন বলেন, মহানন্দা নদীতে জেলেদের অবৈধ পন্থায় ঘেরে (কুমাড়) মাছ আটকিয়ে রাখে। বিভিন্ন সময় ওই কুমাড়গুলো বয়লার মুরগীর খাবার ও তার বেষ্টা ফেলেছে। যা নদীর পানি দুষিত হচ্ছে। ফারাক্কা বাঁেধর কারণে নদীতে প্রায়শই পানি থাকে না। বর্ষাকালে নদীতে পানি পূর্ন হলে কুমাড়ের স্থানের পুঁতে রাখা ডালপালায় বাঁধা পেয়ে নদীর দুপারে আঘাত পায়। ফলে পাড়ের মাটি সরে গিয়ে ভাঙ্গণ দেখা দেয়। বিশেষ করে গোমস্তাপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে চৌডালা হয়ে মকরমপুর ব্রিজ, বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর-দুর্গাপুর এলাকাসহ রহনপুর ইউনিয়নের কাজিগ্রাম,কলকলিয়ায় একই দৃশ্য। এলাকাগুলোতে অবৈধ এ জেলেদের জন্য কারণে নদীর প্রবাহমান কমে গেছে। নদীর পাড়ের অনেক এলাকা নদীর গহব্বরে চলে গেছে।
কালুপুরের আবজাল হোসেন বলেন, এ মহানন্দা নদী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কারেণে তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। দীর্ঘ দিন ধরে নদীতে কুমাড় তৈরি করার ফলে পাড়ের জমি নদীর স্রোতের কারণে বিলীন হতে বসেছে। তার জমিজমা নদীতে তলিয়ে গেছে বলে তিনি বলেন। কুমাড়ে আটকিয়ে রাখা মাছকে বিষাক্ত খাবার (ব্রয়লার বিষ্ঠা) দিচ্ছে। ফলে নদী পানি দূষিত হচ্ছে। যার ফলে এলাকার মানুষ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। তিনি এর প্রতিকার চান।
এসময় এক বৃদ্ধ বলেন, যৌবনকাল থেকে নদীর পাড়ে বাস করে থাকি। স্থানীয়দের ক্ষমতাবলে দীর্ঘ ২৪ বছর থেকে এ কুমাড় দেখছেন। এদর কারণে নদীতে গোসল করতে পারিনা। বাড়ির কাছে ব্যবহ্নত পানি ব্যবহার করা যায়না।
এ ব্যাপারে এক কুমাড় মালিক সুজাউদ্দিন বলেন, তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের কার্ডধারী জেলে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কুমাড়ে মাছ ধরে ব্যবসা করে থাকি। তার কুমাড়ের জন্য পাড়ের লোকজনের কোন ক্ষতি হয় না।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গোলাম মূর্তজা বলেন, নদী থেকে কুমাড়ের ঘেরগুরো উঠানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তারা দেখবেন বলে তাকে জানান। ঈদের আগে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কুমাড়গুলো উঠানোর জন্য মাইকিং এ প্রচার করে সাত দিন সময় বেঁধে দেন। অথচ এক মাস অতিবাহিত হলেও তার চিত্র পালাই নি। তাই এ এলাকার লোকজন দ্রুত নদী থেকে কুমাড় গুলো উঠানোর জন্য দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে গোমস্তাপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা (অতি: দায়িত্বে) ড.মো.আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে অবহিত করে মহানন্দা ও পূণর্ভবা নদী থেকে ছেলেদের কুমাড় সড়িয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তাদেরকে মাইকিং করে করে ৭ দিনের সময় দেয়া হয়েছিল। লকডাউনের কারণে আর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *