রেলের ২ কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্তে কমিটির গড়িমসি

আবুল কালাম আজাদ:- ভুয়া আইডি খুলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতার ফান্ড থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ায় ১৫ দিন পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি  গঠিত তদন্ত কমিটি।  কমিটির প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য না করে, শীঘ্রই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ঈদ-উল-ফিতরের আগে, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা সরিয়ে নেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ।
 ঘটনা জানাজানি হলে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ মে,তাকে গ্রেপ্তার করে নগরীর খুলশী থানা থানা পুলিশ। মামলা দায়ের হয় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে।
এরপর  রেল কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নেওয়া টাকার পরিমান নির্ধারনসহ, সহযোগী ও অন্যান্য বিষয়ে তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেন প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (এফঅ্যান্ডসিও) কামরুন্নাহারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন কার্যদিবসের  মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও  ২৬ মে পর্যন্ত রিপোর্ট দেননি  কমিটি।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ (অর্থ) ফারজানা উম্মে খানমকে। সদস্য ডিএফএ (বুকস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) আব্দুল আওয়াল। এছাড়া কমিটির দুই সদস্যকে কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার আব্দুল আল আসিফ।
 কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই হিসাবে ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা।
এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান অর্থ উপদেষ্টা কামরুন্নাহারের সরকারি মোবাইলে ২৫ মে একাধিকবার কল দিলেও  তিনি রিসিভ করেননি।
গতকাল ২৬ মে বুধবার দুপুরে মোবাইল রিসিভ করলেও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট দেয়নি। আমাকে তদন্ত প্রতিবেদনের একটি কপি দেওয়ার কথা। তা তিনি এখনো পাননি।
তবে তিনি জানান,গত রবিবার থেকে বেতন ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে  কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এখনো অন্তত ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পায়নি। জানতে চাইলে জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অর্থ বিভাগে আমি খবর নিয়েছি। সবার বেতন দেওয়া হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। হয়তো সবার হিসাবে যোগ হয়নি।
জানা গেছে, বিগত ছয় মাস ধরে ধাপে ধাপে রেলওয়ের কর্মচারীদের টাকা  সরানো হচ্ছিল। গত ৮ মে রেলের এক কর্মকর্তার হিসাবে ঈদ বোনাস দুইবার জমা হলে তিনি বিষয়টি বিভাগীয় হিসাব কর্মকর্তার নজরে আনেন। এরপর দিনভর তদন্ত করে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওইদিন রাতেই ফয়সালকে আটক রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। পরদিন রবিবার নগরীর খুলশী থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
সূত্র জানায়, ফয়সালের সাথে একটি চক্র রয়েছে। যারা এসব অপকর্মে তাকে সহায়তা ও সাহস জুগিয়েছে। সেখানে উঠতি কিছু শ্রমিক নেতাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত বছর গুলোতে রেলের পশ্চিম পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ চুরি এমনকি স্টেশনের টিকেট বিক্রির টাকা চুরি, মালামাল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে রেলওয়ে।
ফলে দিনদিন অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে।
 চাকরির বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি মামলার মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *