রাজশাহীতে মহামারীর আকারে ছড়াচ্ছে করোনা ,মৃত্যু -৩ ,আক্রান্ত ২৭৫

আবুল কালাম আজাদ:-২৫ মে বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।তিনি আরো জানান করোনায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুইজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আর অপরজন রাজশাহীর।
এদিকে,  দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিভাগের আট জেলায় ২৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫৯ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী ৩৯ জন।
হাসপাতালের আইসিইউসহ করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬২ জন রোগি। এদের মধ্যে আইউসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন। বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগি। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫ জন ও রাজশাহী ১০ জন। বাকি পাঁচজন নওগাঁ ও নাটোরের।
এছাড়া রাজশাহী থেকে যেসব মানুষ ঢাকা যাচ্ছে তার ৯০ ভাগ   চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার।রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা কয়েক শ লোকের জটলা বেধে আছে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,অনেকে আসছে পায়ে হেটে , বাইসাইকেল, মোটর সাইকেল ,অটোরিকশা, সিএনজি, নসিমন, করিমন সহ যে যেভাবে পারছে রাজশাহী শহরের প্রবেশ করছে।
দেখা যায় অনেকে মাইক্রো গাড়ি রিজার্ভ করেও ঢাকা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা টেস্টে ২১২টি নমুনা
পরীক্ষায় ১৩১ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে বলার অবকাশ রাখেনা জেলার কিরম অবস্থা কতটা ভয়ংকর। আর এর প্রভাব পড়ছে রাজশাহীতে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ লকডাউনের পরিস্থিতি কেমন তা সরোজমিনে দেখার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে  রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল ও পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর প্রবেশদ্বার গোদাগাড়ী এলাকায় পরি যান ।
এ সময় জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল সাংবাদিকদের বলেন, পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া কোনকিছু চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। চালক-হেলপাররা যেন মাস্ক পরে সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট সবার সাথে মিটিং করব। তারপর রাজশাহীর ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেটার গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে । তিনি আরো বলেন, রাজশাহী শহরে এখন প্রতিদিন চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকছে। আমরা এখন মাস্ক পরার ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।
রাজশাহীর এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশাপাশি গোদাগাড়ী আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংযোগ সড়কগুলোও বন্ধ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেন ভারতের মাদক না আসেও সে ব্যাপারেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।
এ সময় গোদাগাড়ীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *