বাগমারায় বন্ধ ব্রীজ-কালভেট খুলে দিতে ইউএনও’কে ডিসির নির্দেশ

আবু বাককার সুজন বাগমার (রাজশাহী)ঃ রাজশাহীর বাগমারায় প্রভাবশালী মৎস্যচাষীদের বন্ধ করে দেয়া সবগুলো ব্রীজ-কালভেট ও স্লুইজ গেটের মুখ খুলে দিয়ে বিলের পানি চলাচল স্বাভাবিক করে দিতে ইউএনও’কে (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাগমারার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর, বালানগর, দেউলিয়া, সগুনা গ্রামের মধ্য দিয়ে গোপালপুর হয়ে একটি দাঁড়া ফকিরনী নদীতে পড়েছে। এই দাঁড়া দিয়ে গণিপুর ও বাসুপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের ৩০/৪০টি গ্রামের নীচু এলাকার পানি প্রবাহিত হয়। সম্প্রতি প্রভাবশালী একটি মহল সগুনা, পোড়াকয়া ও বালানগর গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তার তিনটি কালভেট এবং চারটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দিয়ে মাছচাষ করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নামার অব্যবস্থাপনায় অধিক বৃষ্টিতে নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুর ভরে পরিপূর্ণ হয়ে নিম্ন অঞ্চলের ধান, পাট, পানবরজ, মরিজ ও শাক-শবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মোহম্মাদপুর গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ, আব্দুল কুদ্দুস, হাতেম আলী ও সাহেব আলী জানান, গ্রামের পাশ দিযে বয়ে যাওয়া এ দাঁড়ার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালী একটি মহল সম্প্রতি ১৫টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এ কারণে ওই দাঁড়া দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত বর্ষা মওসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপাড়া স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে বোয়ালিয়া বিলের পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পুকুর খনন করা হয়েছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জশাই বিলের পানি নামার একমাত্র পথ রামরামা দাঁড়ার মুখ, তাতিপাড়া দাঁড়ার মুখ এবং রামরামা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে দু’টি বিলের পানি নামার পথ দাঁড়ার মুখে ইট গেঁথে বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করছেন এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ। বাসুপাড়া ও গনিপুর ইউনিয়নের সোনাবিলের পানি নামার একমাত্র মাধ্যম গোপালপুর স্লুইস গেটের মুখসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তার প্রায় দুই শতাধিক ব্রিজ-কালভেট এবং দাঁড়ার মুখে ও মাঝখানে বাঁশের বানা দ্বারা বেড়া দিয়ে, মাটি ফেলে আবার কোনো কোনো স্থানে ইট গেঁথে স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শতশত একর জমির পানবরজ নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় গত মওসুমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর এলাকায় মোট ৩২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে প্রভাবশালীরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করে কয়েক দিন থেকে ব্যাপকভাবে পুকুর খনন কাজ শুরু করেছে। অভিযোগকারীরা আরো জানান, প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়ম বর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় কৃষকেরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লি¬ষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এতে কোন সুফল মিলেনি বলে ভুক্তভোগী কৃষকেরা অভিযোগ করেন।
এদিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, বাগমারাসহ রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় প্রায় পাঁচশতাধিক ব্রীজ-কালভেট ও স্লুইস গেটের মুখ বন্ধ করে দিয়ে মাছচাষের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেগুলো খুলে দেয়ার জন্য সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, গত মওসুমে অভিযান চালিয়ে গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ ইউনিয়নের পাঁচটি ব্রিজের মুখ বন্ধ খুলে দেয়া হয়েছে। আরো যে সব ব্রীজ-কালভেট ও দাঁড়ার মুখ বন্ধ রয়েছে সেগুলোও খুলে দেয়া জন্য দুই/এক দিনের মধ্যেই অভিযান শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *