পাবনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ; স্বামী গ্রেফতার

পাবনা প্রতিনিধিি: পাবনার সাঁথিয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী কে আটক করেছে। নিহত কানিজ ফাতেমা (২০) বেড়া উপজেলা সদরের শম্ভুপুর মহল্লার আব্দুল কাদেরের মেয়ে। আর আটক স্বামী রাকিবুল ইসলাম সাঁথিয়া উপজেলা সদরের ফেছুয়ান মহল্লার চাঁদু শেখের ছেলে। শনিবার সকালে পুলিশ আটক রাকিবুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে সাঁথিয়া করমজা ব্রীজের কাছে ইছামতি নদীর ক্যানেলে কচুরিপানার নীচ থেকে কানিজ ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ৭ থেকে ৮ মাস আগে রাকিবুলের সাথে ফাতেমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২৮ এপ্রিল স্ত্রী ফাতেমাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে আসে রাকিবুল।
ঈদের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পর বেড়ানোর কথা বলে মোবাইল ফোনে স্ত্রী ফাতেমাকে আসতে বলেন রাকিবুল। তবে তার বাইরে বের হওয়ার কথা ফাতেমার পরিবারের কাউকে জানাতে নিষেধ করেন রাকিবুল।
স্বামীর ডাকে ফাতেমা বাইরে বের হলে তাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায় সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে প্রসাব করার কথা বলে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে রেখে একটু দূরে সরে যায় রাকিকুল। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রী ফাতেমাকে শ^াসরোধে হত্যা করেন। পরে ইছামতি নদীর ক্যানেলে কচুরিপানার নীচে ফাতেমার মরদেহ লুকিয়ে রেখে বাড়ি চলে যায়। যাবার আগে স্ত্রী ফাতেমার মোবাইল ফোন থেকে ‘আমাকে মাফ করো, অন্য একটি ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক আছে, তাই চলে গেলাম’ এই কথা লিখে নিজের ফোনে ও ফাতেমার ভাইয়ের ফোনে মেসেজ পাঠান রাকিবুল।
এদিকে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ফাতেমার বাবা কাদের বেড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে স্বামী রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি পুলিশকে তার স্ত্রীর মেসেজের কথা জানান। এরপরই সন্দেহ হয় পুলিশের।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে স্বামী রাকিবুলকে আটক করে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্য মতে শনিবার (১৫ মে) সকালে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *