ঈদের আগে বেতন- বোনাস না পেয়ে  ৬০% রেলকর্মী, ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত

আবুল কালাম আজাদ:-আধুনিক বেতন প্রদান পদ্ধতির জটিলতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬০% কর্মী এবার ঈদুল ফিতরে বেতন-বোনাস পাননি । রেল কর্মচারীদের বেতন- ভাতা দ্রুত ও সহজে পরিশোধ করার আইবাস প্লাস প্লাস পদ্ধতি বাস্তবায়নে দক্ষতা ও সমন্বয়ের অভাবে এমনটি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিষয়টি রেলওয়ের কর্মীরা রেলমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ দাবি জানিয়েও তারা ঈদুল ফিতরের আগে বেতন-বোনাস থেকো বঞ্চিত হয়েছেন।
রাজশাহী রেলওয়ে শ্রমিক নেতা মেহেদী হাসান বলেন, নতুন ডিজিটাল পদ্ধতির অজুহাত দেখিয়ে বেতন-বোনাস না দিয়ে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে রেলওয়ের ৬০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারীকে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যাদের অবহেলায় আজ শ্রমিক-কর্মচারীরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বেতন-ভাতা পরিশোধ সহজ ও দ্রুততর করতে অত্যাধুনিক আইবাস প্লাস প্লাস পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে সৃষ্ট সমস্যার কারণে রেলকর্মীদের কেউ বেতন পেয়েছে, বোনাস পায়নি। আবার অনেক রেলকর্মী বেতন-বোনাস কোনোটিই পাননি। এই সমস্যা বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে।  এই সমস্যার কারণে বেতন-বোনাস বঞ্চিত হয়েছেন প্রায় ৭ হাজার হাজার রেলকর্মী। তাদের  ঈদের পর বেতন ও বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এর ফলে ৭ হাজার রেলকর্মী পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
 বাংলাদেশ রেলওয়ের ভুক্তভোগী, সংস্থার হিসাব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের  গাফলতিকে দায়ী করছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা।
 বুধবার (১২ মে) বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৮ হাজার রেলকর্মীকে নতুন পদ্ধতিতে বেতন-বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাড় হয়নি। ওইদিন অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফেরেন সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীরা। তাদের বেতন গত ১ ও ৮ মে দেওয়ার কথা ছিল। প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে ১২ মে বেতন-বোনাস দেওয়া হবে বলে তাদের বলা হয়েছিল।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, গত অর্থবছর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই অঞ্চলের সবমিলিয়ে ৩৮টি ইউনিট গঠন করা হয় বাজেট প্রণয়নের জন্য।
 আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেতন ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলে এসব ইউনিট গঠন করা হয়। পদ্ধতিটিতে বেতন ভাতা তোলা ও দেয়ার জন্য দুইবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এসব ইউনিটের সদস্যদের। কিন্তু ইউনিটের অধিকাংশ পুরো অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন ও নতুন পদ্ধতিতে বেতন ভাতা তোলার বিষয়টি রপ্ত করতে পারেনি। সবশেষ গত মার্চেও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ মে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বাজেট প্রণয়ন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজার উপস্থিতিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলের ৩৮টি ইউনিটের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে দক্ষতা না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জাহিদুল ইসলাম  প্রতিমাসে ধাপে ধাপে ১, ৬, ৮ ও ১২ তারিখে বেতন ভাতা পরিশোধের কথা রয়েছে। তবে কেন তা পরিশোধ করা হয়নি তা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন বলতে পারবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (বাজেট) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। রেলের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। তবে এই দুই রেল অঞ্চলের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারাও কিছু বলতে পারবেন না।
তিনি আরো জানান ঈদের আগে কর্মচারীরা কেন বেতন ভাতা পাননি  বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
তিনি বলেন, আইবাস প্লাস প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল শাখার মাধ্যমে স্ব স্ব দফতরের কর্মকর্তাদের অধীনে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইএফটির কাজ শেষ না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে চেকের অর্থ ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাতে নানা কারণে সময় লাগছে।
পশ্চিম রেলের উদীয়মান শ্রমিক নেতা এম এ আক্তার  বলেন, রেলওয়ের ৬০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী আজ ঈদ উদযাপনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
 করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব শ্রমিক-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের কারণে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকা আয় হয়েছে।
 মালবাহী ট্র্রেনে শুধুমাত্র রেলওয়ে পাকশী বিভাগে এপ্রিল মাসে ১৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
ওইসব শ্রমিক-কর্মচারীরাই আজ ঈদ উদযাপনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেন। এটা অমানবিক ও দুঃখজনক।
তিনি আরো বলেন,অথচ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শ্রমিক-কর্মচারীকে নয়, দেখা যাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে কিছু কর্মকর্তাকে। যাদের অবহেলায় ঈদ উদযাপন থেকে বঞ্চিত হয়েছে শ্রমিকরা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানান এই  শ্রমিক নেতা।
তবে এ সমস্যা নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের দায়িত্বশীলরা একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *