এপ্রিলে ভারত থেকে বাংলাদেশ পণ্যবাহী ট্রেন এসেছে ১৬২ টি, যা বাংলাদেশের রেল ইতিহাসে রেকর্ড সংখক

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহন ক্রমে বাড়ছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলেই ভারত থেকে ১৬২টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে এসেছে। যেটি এ-যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। করোনা মহামারীর কারণে গত বছরের ২২ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখনো দেশ দুটির মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সাময়িক বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৯ মে থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত থেকে ১৩২টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে এসেছিল। ফেব্রুয়ারিতে পণ্যবাহী ট্রেন আসে ১১১টি। আর গত মার্চে চাল, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে ১৪০টি ট্রেন। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাটি এখনো একপক্ষীয়। কেবল ভারত থেকে পণ্য নিয়েই বাংলাদেশে ট্রেন আসে। বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিয়ে কোনো ট্রেন ভারতে প্রবেশ করে না। রেলপথে চাল, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, পাথর, ফ্লাই অ্যাশ, জ্বালানি তেল, পার্সেলসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগপণ্য পরিবহন করা হয়।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ২২ মার্চ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী পরিবহন এখনো বন্ধ। তবে রেলে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ওই সময় বন্ধ হলেও ওই বছরের ৯ মে থেকে তা পুনরায় চালু হয়েছে। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ৯ মে ভারত থেকে পেঁয়াজবাহী একটি ট্রেন গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর গত ২৬ জুলাই রেলপথে ভারত থেকে ৫০টি কনটেইনারে সাবান, শ্যাম্পু, টেক্সটাইল ফ্যাব্রিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। বর্তমানে দর্শনা, রহনপুর, বেনাপোল ও বিরল ইন্টারচেঞ্জ দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো যাতায়াত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *