রাজশাহীতে ‘নানা কৌশলে মহিলা জামায়াতের উদ্বেগজনক তৎপরতা

আবুল কালাম আজাদ:-মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় দলটি। দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহার করায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আরেক দফা হোঁচট খায় দলটি। শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে সহিংস আন্দোলন করতে গিয়ে নাশকতার মামলায় জড়িয়ে যান কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এতে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় দলীয় কর্মকাণ্ড। হাল সময়ে প্রতিকূলতার মধ্যেই বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করে দলটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
গোপন ও প্রকাশ্যে চলছে দলটির কর্মকাণ্ড। মাঝে মধ্যে প্রকাশ্য মিছিল করে সংগঠনটি রাজনীতিতে তাদের সরব উপস্থিতি জানান দেয়।
আবার কখনও কখনও হেফাজতে ইসলামের কাঁধে ভর করে স্বরুপে মেতে উঠে নরকীয় কান্ডে।
 অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব, তাদের দলে জামায়াতের অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও থেমে নেই অনুপ্রবেশ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দণ্ডিত হওয়ায় দলীয় নীতি ও রাজনীতির কৌশল নিয়ে মতভেদের কারণে এরই মধ্যে দলটি থেকে বেশ কিছু নেতাকর্মী বের হয়ে গেছেন। তবে সমর্থক ও অর্থদাতাদের বেশির ভাগই রয়েছে মূল সংগঠনের সঙ্গে।  জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন এ দাবিই করেছে। গত কয়েক মাসে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র থেকে উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সক্রিয় , বিশেষ করে মহিলা কর্মীরা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, বেশির ভাগ জেলা-উপজেলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কোনো কোনো জেলায় তাঁরা পুলিশের সহায়তাও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সম্প্রতি দলীয় প্রচারপত্র বিলি করেছেন। দলের নেতাদের বাড়িতে চলছে নিয়মিত বৈঠক। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ এবং দেশে বসে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। সারা দেশে আবার কখনো নেতাকর্মীরা বৈঠক করেন মসজিদে—ফজরের নামাজের আগে কিংবা এশার নামাজের পরে।
আর মহিলা কর্মীরা দুপুরের সময় যখন পুরুষ শুন্য  থাকে বাড়ি।
জামায়াতের একটি সূত্রে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের আপাতত তিনভাবে নিজেদের রক্ষা করে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এসব হচ্ছে আওয়ামী লীগে যোগদান, আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত হওয়া এবং গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে টিকে থাকা, মহিলা সদস্য বৃদ্ধি করা।
 পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়মিত বৈঠক করার স্থান হিসেবে মসজিদ, তাদের নিয়ন্ত্রিত লিরিক বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে বলা হয়।
রাজশাহী মহানগরীর জামায়াতের ঘাঁটি শিরোইল এলাকা। এই এলাকায় শীল কাঁচাবাজারে তাদের মহানগর কেন্দ্রীয় অফিস ছিল। এনেছিল জামায়াতের মহানগর হামিদের বাড়ি। এলাকা থেকে পরিচালিত হতো জামায়াতের সকল কার্যক্রম। পুলিশের তৎপরতায় প্রকাশ্যে বর্তমানে জামায়াতের কার্যক্রম না থাকলেও এই এলাকায় গোপনে মারা হয় জামায়াতে পোস্টার অতর্কিতে বের হয় জামাত শিবিরের মিছিল।
স্থানীয়দের অঅভিযোগ শিরোইল এলাকায় একটি এতিম খানারয় গোপনে বসে জামায়াতের গোপন সভা।
সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরীর  মধ্যে  রয়েছে জামায়াতের শক্ত অবস্থান। একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকা পরিবর্তন করে বর্তমানে সাংগঠনিক কাজ করছেন।
আগে যাঁরা শিরোইল এলাকায় কাজ করতেন তারা এখন মতিহার এলাকায় কাজ করছেন, যারা মতিহার এলাকায় আগে কাজ করতেন তারা এখন দরগাপাড়া -পাঠান পাড়া এলাকায় কাজ করছেন, যারা আগে পাঠান পাড়া এলাকায় কাজ করতেন তারা এখন কোর্ট এলাকায় কাজ করছেন।, এভাবে নেতাদের কর্ম এলাকা বদল করে দেওয়া হয়েছে।
মূল জামায়াতের চেয়ে এখন বেশি সক্রিয় মহিলা জামায়াত। মহিলা জামায়াতের নেতৃত্বে রয়েছেন মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামসুন নাহার। ছাত্রশিবিরের যেসব কর্মী কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগ নিজেদের নামে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে কোচিং ব্যবসা করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপচার্য আব্দুস সোবহান বলেন, ‘জামায়াত রাজনৈতিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে বা রাজনীতি ছেড়ে ঘরে বসে রয়েছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তারা কৌশল বদল করে কাজ করছে। তারা যেকোনো সময়ে ফের সহিংসরূপে যাতে না ফিরতে পারে সে বিষয়ে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবে অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে জামায়াত এ দেশে কখনো জনভিত্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। কারণ সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রই তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *