রাজশাহীতে শিক্ষা ভাতা দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ 

বিশেষ প্রতিনিধি:- রাজশাহীতে শিক্ষা ভাতা দেওয়ার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইরা বেগম (৪৫) নামের এক মহিলার বিরুদ্ধে। ইরা বেগম রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন ধরমপুর (আলমের মোড়) এলাকার বাসিন্দা। শিক্ষা ভাতার দেওয়ার নামে প্রতিটি পরিবারের নিকট থেকে জন প্রতি  সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা গেছে   রাজশাহীর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার প্রায় ৬ শতাধিক ব্যক্তিকে শিক্ষা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে গত এক বছর আগে জনপ্রতি সাড়ে ৬-৮ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। আর এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইরা ও তার মাঠকর্মীরা।
এলাকাবাসী জানান, তারা প্রায় এক বছর আগে ইরা বেগমের মাঠকর্মী ধরমপুর সুইটের মোড় এলাকার মোমেনা, আলমের মোড় এলাকার জিন্নাত আরা বিনা,  বিভিন্ন কর্মীর কাছে কাছে শিক্ষা ভাতার কার্ড পেতে প্রথমে ৬৫০০ টাকা এবং বিভিন্ন সময় ব্যাংক একাউন্ট খোলা, বই ও আনুসঙ্গিক খরচ বাবদ ৮ হাজার করে টাকা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের একাধিক সদস্য  অভিযোগ করে বলেন, (অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত)মোটা অংকের শিক্ষা ভাতা পাওয়ার আশায় তারা এই টাকা দিয়েছেন। প্রতারক চক্রটি মাঠ পর্যায়ে কিছু মহিলা ও পুরুষ নিয়োগ দিয়ে এই টাকা উত্তোলন করেন। এরমধ্যে অন্তু নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি।
অন্তু নামের  ঐ  মাঠ কর্মীক তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ( +8801838402862) দিলে তিনি প্রথম দুবার ফোন রিসিভ করেনি। পরে সেই মাঠ কর্মী  অন্য একটি ফোন ( 01788-163086) থেকে কল করেন। মাঠ পর্যায়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো মিথ্যা। তবে নারী মুক্তি নামের একটি এনজিও থেকে টাকা নেওয়ার জন্য অনেকেই ফর্ম পুরোন করেছে। এছাড়াও তিনি  সংবাদ প্রকাশ করলে ভাল হবে না বলে হুমকি দেন। (কল রেকর্ড সংরক্ষিত)
ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তাদের কোন টাকা দেওয়া হয়নি। পরে তারা বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছে।(সাক্ষাৎকার ভিডিও সংরক্ষিত)
অনুসন্ধানে আরও উঠে আছে এই প্রতারক চক্রটি নানাভাবে এনজিও সংস্থার নামে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে।
এবিষয়ে কথা বলতে মুঠো ফোনে ফোন দিলে মহিলা আওয়ামীলীগের মহানগর কমিটির যুগ্ম সাঃ সম্পাদক ইরা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্টের চেষ্টা চলছে। এগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *