চুরির অভিযোগে ৩ জনকে গাছে বেধেঁ নির্যাতন

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :রা জশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদিপুর গ্রামে জল মটার চুরির অভিযোগে ৩ জনকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গাছে সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেয়ায় তার মা-বাবাকেও মারধর করা হয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক আম বাগানের মধ্যে মেহগনি গাছের সাথে রশি দিয়ে বেধে তাদের নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনে শিকার বারশতদিয়াড় গ্রামের টুলু হোসেনের ছেলে দুলু হোসেন (৩০), হেলালপুর গ্রামের সারাত আলীর ছেলে মাইদুল ইসলাম (৪০), মহদিপুর গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে সাইদুল ইসলামকে (৪৫) ধরে আনা হয়। পরে আযুব আলীর আম বাগানের মধ্যে মেহগনি গাছের সাথে রশি দিয়ে বেধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাদের নির্যাতন করার দৃশ্য এলাকার শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছিল। কিন্তু নির্যাতনকারীদের ভয়ে কেউ তাদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসেনি। তাদের শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেহগনির গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তারা জানান।

জানা যায়, উপজেলার মহদিপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে আযুব আলীর বাড়ির আঙ্গিনায় জল মটার বসানো ছিল। এই জল মটারটি তিনদিন আগে (বুধবার) রাতে চুরি হয়। চুরির অভিযোগে শনিবার ভোর রাতে ঘুম থেকে তুলে এনে এ নির্যাতন চালায় আযুব আলী ও তার সহযোগীরা।
এবিষয়ে আযুব আলী জানান, আমার বাড়ির আঙ্গিনা থেকে দুলু, মাইদুল, সাইদুল রাতের আধারে জল মটার চুরি করে নিয়ে যায়। জল মটারটি স্থানীয় ভাঙড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়। গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে শনিবার সকালে তাদের ধরে এনে মেহগনি গাছের সাথে শুধু বেধে রাখা হয়। তাদের কোন প্রকার মারপিট করা হয়নি। পরে চৌকিদাদেরর সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তবে চুরির বিষয়টি তারা এলকার শত শত মানুষের কাছে শিকার করেছেন বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে মনিগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা অবগত করলে চৌকিদার পাঠিয়ে আমার কার্যালয়ে আনা হয়। বিষয়টি নিয়ে ইউপি মেম্বর ও স্থানীয়দের নিয়ে সমঝোতার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাঘা থানার তদন্ত (ওসি) আবদুল বারী জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে তারা অভিযোগ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *