পাবনায় খাল খননে দখলদারের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ বসবাসকারীরা!

পাবনা প্রতিনিধিিিি: পাবনায় নদীর জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে বাড়ী ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় নদী খনন করতে গিয়ে খননকৃত মাটি বৈধ বসতিদের জায়গায় ফেলার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বৈধ বসবাস কারীরা।

এদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংবাদ পেয়ে হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন করে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ বসবাসকারীরা।
ঘটনাটি জানার পরপরই জেলা প্রশাসন ও পাউবো কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিরসন হলেও আর্থিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ টি পরিবার।
জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মনোহরপুর বড়ব্রীজ থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের তারাপাশা স্লুইচগেট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খাল খনন চলছে।
পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন করতে গিয়ে প্রভাবশালী দখলদারকে বাঁচাতে গিয়ে খালপাড়ের বৈধ বসবাসকারীরা চরম ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট খালের একপাড়ের জায়গা দখল করে পাকা ঘরবাড়ি ও সীমানা ওয়াল নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আলহাজ্ব তরিকুল ইসলাম। খাল খনন শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার খালের দুপাড়ে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা ও গাছপালা সড়িয়ে ফেলার জন্য জানিয়ে দেয়। পর্যায়ক্রমে দু’পাড়ের অবৈধ ভাবে বসবাস করা বাসিন্দারা খালের জায়গা ছেড়ে দেন। খাল খননের মাটি খালের পাশে সরকারি জায়গায় একসেভেটর মেশিন দিয়ে কেটে স্তুপ করা হয়। মনোহরপুর বড়ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে এসে দেখা দেয় বিপত্তি।
ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, অবৈধ ভাবে খালের দু’পাড় দখলকারী পাবনা বিগবাজারের চেয়ারম্যান আলহাজ তরিকুল ইসলাম নিজের দখলকৃত জায়গায় নির্মাণ করা বিল্ডিং বাড়ি ও সীমানা প্রচীর রক্ষার জন্য অনৈতিক ভাবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ম্যানেজ করেন। ঠিকাদার ও মাটি কাটা সংশ্লিষ্টরা তরিকুল ইসলামের অবৈধ ভাবে দখল করা খালের জায়গায় বিল্ডিং বাড়ির আংশিক ও সীমানা প্রাচীর রক্ষার জন্য নদীর এক পাড়ের মাটি অন্যপাড়ে অতিরিক্ত ভাবে স্তুপ করায় তাহের আলী, হাবিব বিশ্বাস, হেলাল, শাহীন, আতোয়ার, আছিয়া, শাহীন, হাশেম, সোহেল, জয়তুন, জয়নাল, মহসিনসহ কমপক্ষে ১৫ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্রমাগত মাটি পড়তে পরতে মাটির স্তুপ বেশি উচুঁ হয়ে বসবাসরত বাড়িঘরের উপর পড়লে অধিকাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য এলাকাবাসী চেষ্টা করলেও স্থানীয় ভাবে মিমাংসা না হওয়ায় বিষয়টি পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রোখসানা মিতা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন, সরকারি সার্ভেয়ার, আমিন, খাল খনন কাজের ঠিকাদার, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
দীর্ঘ সময় ধরে মৌজা ভিত্তিক জমি মেপে খালের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। সরেজমিন পরীক্ষা নীরিক্ষার পর আলহাজ তরিকুল ইসলাম সরকারি জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন এমন সত্যতা খুঁজে পান সংশ্লিষ্টরা। পরে সর্বসম্মতিক্রমে সাধারন মানুষের ক্ষতি না করার শর্তে ঠিকাদারকে খাল খননের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানায়।
পাবনা বিগ বাজারের চেয়ারম্যান আলহাজ তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কোন খালের জায়গা দখল করি নাই। এলাকার একটি মহল ঠিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পারায় আমাকে ঠিকাদেরর সাথে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট খাল খনন কাজের ঠিকাদার জাহিদুর রহমান মিঠু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক তত্বাবধানে আমাদের লোকজন কাজ করছে। এখানে অনিয়ম ও দূর্নীতি করার সুযোগ নেই। পাউবোর মেপে দেওয়া এবং লাল নিশানার চিহ্ন ধরেই আমরা খাল খনন করছি। অবৈধ দখলের বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড ভালো বলতে পারবেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোখসানা মিতা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রনে একটি খাল খনন কাজ চলছে। খননকৃত মাটি রাখা নিয়ে স্থানীয় ভাবে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, খাল খনন নিয়ে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেখানে গিয়ে খালের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে আসছি। পাশাপাশি অবৈধভাবে দখলদারকে দ্রুত জায়গা খালি করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মনোহরপুর বড়ব্রীজ থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের তারাপাশা স্লুইচগেট পর্যন্ত পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়া ১০ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সোয়া ১০ কিলোমিটার খাল খনন কাজে নদীর প্রশস্ত হবে তলদেশ থেকে ৪০ ফুট এবং জায়গা ভেদে ৫/৭ ফুট গভীর খনন করা হবে বর্তমান গভীরতার চেয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *