গোমস্তাপুরে ক্যান্সার আক্রান্ত ৬ বছরের শিশু সাগরকে আর্থিক সহায়তা দিলেন বিভাগীয় কমিশনার

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের নাদেরাবাদ গ্রামের মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬ বছরের শিশু সাগরকে আর্থিক সহযোগিতা করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর। রোববার সকাল ১১ টার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত সাগর পিতা বাবলু’র হাতে আর্থিক সহযোগিতার চেক তুলে দেন ।

সাগরের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি সাগর ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। পত্রিকায় সাগরের ছবি দেখে আমি খুবই মর্মাহত হই। তাই সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হল। এছাড়াও সাগরের চিকিৎসার সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার ড মো. হুমায়ুন কবীর।
উল্লেখ্য, ১ এপ্রিল দৈনিক সোনার দেশ ও গৌড়বাংলায় পত্রিকায় ‘ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬ বছরের শিশু চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা’- শীর্ষক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ছেলের অসুখের ব্যাপারে সাগরের পিতা বাবলু জানান, তিন মাস আগে হঠাৎ করে সাগরের ডানপাশের চোখ ফুলে যায়। তার কয়েকদিন পর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত তিন মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে আমার ছেলের সমস্ত শরীর ফুলে যায় এবং সে চোখে এখন কিছু দেখতে পাই না।
আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে সাগরের পিতা বাবলু জানান, আমি ভ্যানে ফেরি করে ডাব, আনারস, কলা ও তরমুজ বিক্রি করি। আমার পক্ষে এ রোগের চিকিৎসা করা অসম্ভব। টাকার অভাবে আমি আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। এই করোনাকালীন আমার ছেলেকে চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। স্যারের সহযোগিতায় আশা ফিরে পেয়েছি, আবার নতুন করে আমার ছেলের চিকিৎসা করাবো।
এছাড়াও তিনি আরও জানান, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় আমার ছেলের সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর আমি প্রথম আর্থিক সহযোগিতা পেলাম। তাই আমি সোনার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
সাগরের মা জানান, আমার ছেলেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বলহীন হয়ে পরেছি। তাই টাকার অভাবে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করতে পারছিলাম না। বিভাগীয় কমিশনার স্যার আমার ছেলের চিকিৎসা করার জন্য টাকা দিয়েছেন। তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অন্তত আমার ছেলে আর বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না বলে জানান নাসিমা বেগম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *