ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যক্ষ লাঞ্জিত, চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পেশীশক্তি দেখিয়ে চাকুরি বহাল রাখার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক  চাকুরির মেয়াদ  শেষ হওয়া  সত্ত্বেও  জোর-জবরদস্তি কলেজে অবৈধভাবে  প্রবেশ  করে অনধিকার চর্চা সহ অধ্যক্ষ’কে  লাঞ্জিত,  হুমকি-ধামকি কলেজ  ডিপার্টমেন্টে  বহিরাগতদের  নিয়ে  প্রবেশ  করে বিশৃঙ্খলা     সৃষ্টি  করছে  ডাঃ মহিবুল হাসান  ও  অধ্যাপক  ডাঃ মামুন  উর   রশিদ।  এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আনোয়ার হাবিব নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন। গত দুদিন ধরে এ ধরনের তাণ্ডাব চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এতে করে কলেজে পড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

কলেজ অধ্যক্ষ আনোয়ার হাবিব এক প্রশ্নের উত্তরে জানান. বিষয়টি মিথ্যা। মহিবুল হাসান ও মামুন অর রশিদ নামের দুজন চিকিৎকের চুক্তিভিতত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের সময় শেষ হওয়ায় বাদ দেওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  একটি বেসরকারী চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। একজন চিকিৎসকের ৬৫বছর বয়স হলে তাঁর চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও কোন চিকিৎসক যদি উদ্ধঁতন কর্তপক্ষের কাছে চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানান। সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন তাহলে সেই চাকুরির মেয়াদ আরো ৬ বৃদ্ধি করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী যাদের চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন না. সেই ক্ষেত্রে উক্ত আবেদনের বিপরীতে কোন নোটিস করা হয় না। এতে করে বুঝে নিতে হয়। তিনার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়েছে।  তাঁকে কলেজ অধ্যক্ষ বিষয়টি অবগত করেন। আর এ নিয়ম শুরু থেকে চলে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এরআগে অধ্যাপক  ডাঃ মামুন  উর   রশিদ এর চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করলে ৬ মাস বৃদ্ধি হয়। এ মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্প্রতি তিনি আবারো আবেদন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁর মেয়াদ আর বৃদ্ধি করেননি। এদিকে মহিবুল হাসানের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তারা কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশ অমান্য করে কলেজের অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছে এবং নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান। অধ্যক্ষ আরো দুঃখ প্রকাশ করে বলেন. সত্য ঘটনা  প্রকাশ না করে তারা গণমাধ্যমকে ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যারিত করেছে। বিরোধীপক্ষের বক্তব্যর জের ধরে অধ্যক্ষ বলেন. কলেজ ও হাসপাতালে সবকিছু স্বভাবিক রয়েছে। তারা কয়েকজন বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভয়ভীতি প্রর্দশন করে  প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে পুলিশের উপস্থিতি তা ব্যর্থ হয়েছে।

চিকিৎসক মহিবুল হাসান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভেতরে ৮ থেকে ১০ জন চিকিৎসক আটকা পড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন নোটিশ ছাড়াই ৭-৮ জন চিকিৎসককে ছাটায় করেছে।

এসময় চিকিৎসকরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন বলেন- ২০০৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮ বছরেও কোন চাকরী বিধিমালা তৈরি হয়নি। সিনিয়র শিক্ষকদের চাকরিতে যোগদানের সময় স্বল্প সময়ের (৬ মাস) চুক্তিবন্ধ করা হয়। চুক্তির মেয়াদ খেয়াল খুশিমত নবায়ন করা হয়। নিয়োগপত্র শর্ত অনুযায়ী ১ মাসের আগাম নোর্টিশ ছাড়াই অসম্মাজনকভাবে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, বিভাগীয় সিনিয়র অধ্যাপকের স্বপ্লতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি নবায়ন করা হয় না।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *