বাঘাতে বাতাসে আমের মুকুলের ঘ্রাণ

লালন উদ্দীন, বাঘা (রাজশাহী)ঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমগাছগুলো মুকুলে ভরে গেছে। বসন্তে নানা ফুলের সঙ্গে সৌঁরভ ছড়াছে গাছে গাছে আমের মুকুল। আর এ মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মনকে করে তুলছে আরও প্রাণবন্ত।
গতকাল সরেজমিন বাঘার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রণ। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন আম বাগান মালিকরা।
মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। তবে বড় আকাররের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। আমুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি অন্যতম। ইতোমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা।
বাগান মালিক মো: হাসমত গান জানান, এক সপ্তাহ আগে থেকে তাদেও বাগানে লাগনো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশি ভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। তিনি জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তিনি। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছেন বাঘার আম বাগান মালিকরা ।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ভালো ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তাঁদের দেয়া তথ্য মতে, গত কয়েক বছর থেকে বাঘার আম বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমের রাজধানী হিসাবে খ্যাত জেলার বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম। সব জাতের আম মিলিয়ে এবার বাঘায় দেড় লাখ মেট্রিকটন আম উৎপাদিত হতে পাওে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বৈজ্ঞাননিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমন সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিকসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা ব্যপক হাওে লাভবান হবেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণা বেক্ষণের জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়ার ফলে গত তিন বছর থেকে বাঘার আম বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *