ঘটনা স্থলে না থেকেও প্রধান আসামী মেয়র মুক্তার !

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘার রুস্তমপুর এলাকায় আজিবর রহমান নামে এক যুবলীগ নেতাকে মঙ্গলবার সকালে দুস্কৃতিকারীরা মারপিট করে তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে। এ ঘটনায় আজিবরের স্ত্রী বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পুলিশ রাতে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনা স্থলে না থেকেও প্রধান আসামী হয়েছেন আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী।
মামলার বাদী আজিবরের স্ত্রী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১৬ জানুয়ারী আড়ানী পৌর নির্বাচনে তাঁর স্বামী ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আজিবর রহমান নৌকার পক্ষে ভোট করায় আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর কর্মী সমর্থকরা মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় তার স্বামীকে একটি ফাঁকা জায়গায় একা পেয়ে মারপিট করে গুরুত্বর জখম করা-সহ তার ডান-পা ভেঙ্গে দিয়েছে।
আর এ ঘটনায় মেয়র মুক্তার আলীকে প্রধান আসামী করে ১১ জননের নাম উল্লেখ করে অগ্যাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন আজিবরের স্ত্রী নাজমা বেগম। বর্তমানে আজিবর রহমান রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ মামলায় পুলিশ ঐ রাতে তিনজন আসামী’কে গ্রেফতার করেছেন। তারা হলেন-রুস্তমপুর গ্রামের ভুলা ওরুপে টগর(৩৭)আব্দুল আল মামুন(৩৫) ও সজিব হোসেন (২৮)। তবে আব্দুল আল মামুনের পিতা রমজান আলী জানান, ঘটনার সময় তার ছেলে অন্য একটি মামলায় রাজশাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে মুক্তার আলী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে নৌকার পক্ষে অবস্থান নেয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শহীদুজ্জামান।
তবে এ দাবি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন মেয়র মুক্তার আলী। তিনি বলেন, আজিবরকে ফাকা জায়গায় একা পেয়ে কে-বা কাহারা মারপিট করেছে শুনেছি। অথচ এ মামলায় আমাকে প্রধান আসামী করে আমার পক্ষের আরো ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি)তদন্ত আব্দুল বারী বলেন, দুস্কর্মের সাথে ঘটনা স্থলে না থেকেও সহযোগী থাকায় যে কেউ আসামী হতে পারে। তিনি বলেন, এ মামলায় রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীদের বুধবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *