নিরাপদ আম রপ্তানির লক্ষ্যে বাঘায় কৃষকদের সাথে মতবিনিময়

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :  রাজশাহীর বাঘায় কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নিরাপদ আম রপ্তানির লক্ষ্যে আম চাষী, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক কৃষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সারাদেশ জুড়ে বাঘার আমারে সু-খ্যাতি রয়েছে। বিগত কয়েক বছর থেকে এ অঞ্চলের আম রপ্তানী করা হচ্ছে দেশের ডন্ডি পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক বাজারে। হরটেক্স ফউন্ডেশান থেকে শুরু করে দেজের বিভিন্ন কম্পানী এখানকার আম বিদেশে রপ্তানী করছেন। এ জন্য স্থানীয় সাংসদ এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলমের ব্যাপক প্রচেষ্টা ও অবদান রয়েছে।
শফিউল্লাহ্ বলেন, বাঘা থেকে কম খরচে কি ভাবে ভাল আম বিদেশে রপ্তানী করে লাভবান হওয়া যায় সে সম্পর্কে গত তিন বছর পুর্বে বালাইনাশক কম্পানী র‌্যাভেল গ্রুপ “ফুট ব্যাগিং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে সেমিনার করেন। সেখানে এ অঞ্চলের প্রায় শতাধিক লিড ফার্মার-সহ অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রন করা হয়। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পরে আমের গুনগত মান বেড়েছে এবং গত কয়েক বছর থেকে তাঁরা বিদেশে আম রপ্তানী করে লাভবান হচ্ছেন।
সকাল ১১ টায় রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষকদের উদ্দেশ্যে গ্যানগর্ভ মূলক বক্তব্য রাখেন, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকার পরিচালক এ কে এম মনিরুল আলম। তিনি নিরাপদ আম রপ্তানির লক্ষ্যে কৃষকদের অনপ্রানীত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক,অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমা, ঢাকা,আসাদগেট হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র হর্টিকালচারিস্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আম চাষী, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক প্রতিনিধি-সহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশ নেন প্রায় দুই শতাধিক কৃষক উন্নত পদ্ধতিতে আমা রপ্তানী মূলক এই সেমিনারকে ইতিবাচক হিসাবে দেখেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, বাঘায় আম বাগান রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে। খাদ্য শস্যের পাশা-পাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে এখানে আমই প্রধান। প্রতিবছর উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপারজন করেন ৭ থেকে ৮ শ কোটি টাকা।
বাঘার লিড ফার্মার আশরাফুদৌল্লা ও মহাসিন আলী বলেন, সরকার বিভিন্ন উপজেলায় ধান-সহ সবজি চাষীদের সহায়তা দিয়ে থাকেন। এদিক থেকে আমরা আম চাষীরা যদি বাগান পরিচর্চার জন্য অর্থ সহায়তা(ঋণ)পেতাম তাহলে অনেকেই উপকৃত হতেন। তাঁরা এ বিষয়ে সরকারের উধতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *