আড়ানীতে মুক্তারের মিছিলে মানুষের ঢল

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি: আর মাত্র ৫ দিন পর ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে আড়ানী পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গত রবিবার আ’লীগের সতন্ত্র প্রার্থী ও চলমান মেয়র মুক্তার আলীর মিছিলে ছিল মানুষের ঢল। এদিক থেকে রবিবার বিকেলে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মুক্তার আলী। তার পক্ষে এবার মিছিলে নেমেছেন হাজার-হাজার পুরুষ। বলা যেতে পরে, তাঁর নিকটতম ৪-৫ টি ওয়ার্ডে পুরুষ শুন্য বাড়ী। এসব ভোটারদের কাছে এখন প্রতীকের চেয়ে আঞ্চলিক টান এবং ব্যাক্তি ইমেজ বড় হয়ে দাড়িয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
এখানে আঞ্চলিক টান বলতে বোঝানো হয়েছে আড়ানী বড়াল নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রেল লাইনের উত্তর এবং দক্ষিনকে। এবার মেয়র পদে যে তিনজন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তাদের মধ্যে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামান শহীদ এবং বিএনপির প্রার্থী তোজাম্মেল হকের বাড়ী রেল লাইনের উত্তরে। সেখানে ৩ টি কেন্দ্রে ভোটর সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার। অপর দিকে রেল লাইনের দক্ষিন প্রান্তে ৬ টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এ পাশ থেকে একক প্রার্থী চলমান মেয়র মুক্তার আলী। তিনি একাধারে ইউপি সদস্য, কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং সর্বশেষ ৫ বছর মেয়র মিলে মোট ১৯ বছরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে স¤প্রতি নির্বাচন থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরে দাড়ানো তরুন প্রার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা রিবন আহাম্মেদ বাপ্পীর এক কর্মী বলেন, রেল লাইনে উত্তর পাশের লোকজন হিংস্র প্রকৃতির এবং তারা এলাকা ভিত্তির বৈশম্য সৃষ্টি করে। যার উদাহারণ আমরা আড়ানী পৌর সভা প্রতিষ্ঠার পুর্বে আজকের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তোজাম্মেল হককে চেয়ারম্যান বানিয়ে দেখেছি । সুতারাং এ ভুল করতে আর রাজি নয়।
সরেজমিন রবিবার বিকেলে আড়ানীতে গিয়ে দেখা গেছে, মুক্তার আলীর পক্ষে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার পক্ষে ৪-৫ টি ওয়ার্ডের হাজার-হাজার পুরুষ ভোটাররা যেন সবকাজ ফেলে মিছিলে যোগ দিতে এসছেন। তাদের মুখে একটি স্লোগান, জয়ের মালা পরবে কে-মুক্তার ছাড়া আবার কে। হবে-হবে হবে জয়,নারিকেল গাছ মার্কার হবে হয়। এই মিছিলের পুর্বে আড়ানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুক্তার আলী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন,
আমি এর আগেও অনেকবার ভোট করেছি। তবে এবারের মতো সাড়া এর আগে কখনো পায়নি। আমি আপনাদের কাছ থেকে এই মুহুর্তে যে আশার বানী শুনতে পাচ্ছি সেটা হলো আঞ্চলিক টান। আপনারা জানেন, আমার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত রাজনৈতিক ম্যারপ্যাচে সেটি হয়নি। আমি আপনাদের ভালবাসার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।
তিনি বলেন, আমার কাছে প্রতীক কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আমার কাছে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী হলো ব্যাক্তি। আমি এখন পর্যন্ত রেল লাইনে উত্তরে ভোট চাইতে যাইনি। কারণ তাদের মধ্যে ব্যাপক বৈশম্য রয়েছে। এ কথাটি ভেবে আপনরা আমাকে আর একটিবার নারিকেল গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়ন করার সুযোগ দিবেন। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, যতদিন বেঁচে থাকবো আপনাদের ক্ষেদমত করে যাবো এবং মরার আগের দিন পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই বেঁচে থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *