বাপ্পীকে বসানোর চেষ্টা অব্যাহত মাঠ ছাড়তে নারাজ মুক্তার

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : আড়ানী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সরব হয়ে উঠেছে প্রচার মাইক, লিফলেট বিতারণ, মোটার সাইকেল সোডাউন, মিছিল এবং গনসংযোগ। এ পৌর সভায় বড় দুটি রাজনৈতিক দল আ’লীগ ও বিএনপি থেকে দু’জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন আ’লীগর দুই বিদ্রোহী প্রার্থী।
এখানে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন (২৯-ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত হননি আ’লীগের দুই বিদ্রোহী। এর হলেন আড়ানী পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী ও আড়ানী পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি রিবন আহাম্মেদ বাপ্পাী। এই দু’জনের মধ্যে বাপ্পীকে মাঠ থেকে সরে দাড়ানোর জন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। তবে জীবনে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে নারাজ মুক্তার আলী।
সরেজমিন আড়ানী পৌর এলাকা ঘুরে লক্ষ করা গেছে, বর্তমান মেয়র ও পৌর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তার আলী তাঁর লোকজন নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত গনসংযোগ করে চলেছেন। এই গনসংযোগে তার একটিই কথা,আমি চলমান মেয়র। আমার উন্নয়ন দৃশ্যমান। তার পরেও দল কেন আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য জনকে দিলো !
তিনি আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলেন, এবার আ’লীগ এবং বিএনপি থেকে যে দু’জনকে দল মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের বাড়ী আড়ানী বড়াল নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রেল লাইনের উত্তরে। সেখানে তিনটি কেন্দ্রে ভোটার সাংখা সাড়ে সাড়ে ৩ হাজার। এর মধ্যে বিগত নির্বাচনের হিসাবে নৌকার ভোট ২৭৫ টি। এ দিক থেকে রেল লাইনের দক্ষিনে ভোটার রয়েছে ১০ হাজার। তাহলে উত্তর দিকে থেকে কেন দলীয় প্রার্থী দেয়া হলো এটা আমার বোধগম্য নয় ? আর দক্ষিনের লোকজন কেনই-বা তাদের ভোট দিবে এটা আমার প্রশ্ন এবং এটি প্রমান করা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারীর নির্বাচনে।
এদিকে আ’লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী রিবন আহাম্মেদ বাপ্পী তিনিও সমানে গনসংযোগ করছেন। তিনি একান্ত সাক্ষাত কারে এ প্রতিবেদককে বলেন, দলের উচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে বসে যেতে বলা হচ্ছে এটি সত্য। কিন্তু আমি যদি এখন মাঠ থেকে সরে দাড়ায় তাহলে আমার কর্মীরা কষ্ট পাবে। তাই শেষ পর্যন্ত নিয়াত করেছি ভাগ্যে যা থাকে হবে। তবুও বাঠ থেকে সরে দাড়াবো না। এ সময় রেল লাইনের উত্তর-দক্ষিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দক্ষিনের লোকজনের মধ্যে এলাকা ভিত্তিক বৈশম্য ছিলনা। এটা উত্তর পাশের লোকজন সৃষ্টি করেছে। যার প্রভাব এবারের ভোটে প্রতিয়মান হবে।
তবে আ’লীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ দাবি করেছেন,২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় কারণে রেল লাইরে উত্তরের লোকজন দক্ষিনের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। তিনি বলেন, আমি উত্তর-দক্ষিকে কখনো আলাদা করে দেখিনা। স্থানীয় সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সহযোগিতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাই আমি নৌকার মাঝি হয়েছি। তবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *