বাঘায় নির্যাতনের শিকার এক নারীকে সেলাই মেশিন ও কাটা কাপর প্রদান

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী এক নারী বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন ও কাটার কাপড় প্রদান করেন ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসৃচি বাঘা শাখা। গতকাল সোমবার (২৮ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় ব্র্যাক বাঘা অফিস কার্যলয়ে বাঘা পৌর সভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু প্রধান অতিথি হিসাবে নির্যাতনে শিকার নারী রোজিনাকে সেলাই মেশিন ও কাটা কাপর হাতে তুলে দেন।
সেলাই মেশিন ও কাটা কাপর বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্র্যাক (দাবী) বাঘা শাখার ম্যানেজার মোস্তফা কামাল এর সভাপতিত্বে ও ব্র্যাক ক্ষমতায়ন কমসৃচি রাজশাহী জেলা সিনিয়র ব্যবস্থাপক মমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ক্ষমতায়ন কর্মসৃচি রাজশাহী জেলা অঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান, বাঘা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পংকজ কুমার দাস, অন্যান মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনিগ্রাম ইউপির ১নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক লালন উদ্দীন, ব্র্যাক ক্ষমতায়ন বাঘা শাখার কর্মসৃচি সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ। অলোচনা শেষে স্বামীর নির্যতনের শিকার বাঘা উপজেলা মনিগ্রাম ইউপির ১ নং ওয়াডের ভানুকর গ্রামের মৃত লালচান আলীর মেয়ে রোজিনা হাতে সেলাই মেশিন ও কাটা কাপর প্রদান করা হয়। রোজিনার বিয়ে হয়েছিল বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউপির আলাইপুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে ইবরাহিম হোসেনের সঙ্গে বিয়ে পর থেকে যৌতুক ও নিযাতন করে আসছিল। ইবরাহিম মাদক আসক্ত বলে জানা যায়।
প্রধান অতিথি শাহিনুর রহনান পিন্টু বলেন, নারী বিবাহিত জীবনে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে স্বামীর মাধ্যমে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নারী যৌন, শারীরিক, অর্থনৈতিক, মানসিক, যৌতুক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে সামাজিক মর্যাদা ও পুনরায় নির্যাতনের ভয়ে মুখ খোলেন না নির্যাতিত এসব নারী। নির্যাতনের ঘটনাকে এখনও পরিবারের বিষয় হিসাবে মনে করেন তারা। তিনি আরো বলেন, দেশে পারিবারিক নির্যাতন রোধে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও আইনের ব্যবহার না থাকা এবং সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার কারণেই পারিবারিক নির‌্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। নারী ওপর নির্যাতনের ফলে নির্যাতনের শিকার নারী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হন পরিবারের অন্য সদস্যরাও। আর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পুরো সমাজের ওপর।
ব্র্যাক ক্ষমতায়ন কর্মসৃচি রাজশাহী জেলা অঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, এ অবস্থায় পারিবারিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকে নির‌্যাতনের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে হবে এবং এ বিষয়ে আইন যে শাস্তির বিধান আছে সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি কওে তা জানিয়ে তাদের এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত রাখতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারী এ বিষয়ক আইন সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। নারী নির্যাতনকারীর অধিকাংশই যেহেতু পুরুষ তাই নারী নির্যাতনবিরোধী সরকারী-বেসরকারী সব কর্মকা-ে পুরুষদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে নারী নির্যাতন কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *