প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করার ঘোষনা মুক্তারের-বিপাকে শাহীদ !

মোঃ লালন উদ্দীন, বাঘা রাজশাহী থেকে : আসন্ন আড়ানী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই এর পর প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করার ঘোষনা দিয়েছেন সরকার দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও চলমান মেয়র মুক্তার আলী। ফলে অনেকটাই বিপাকে রয়েছেন দলীয় প্রার্থী শহিদুজ্জামান শাহীদ।
আসন্ন আড়ানী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২০-ডিসেম্বর ছিলো মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন। ঐদিন বিএনপি থেকে একক প্রার্থী তোজাম্মেল হক মনোনয়ন জমা দিলেও সরকারি দলের প্রার্থী শহিদুজ্জামান শাহীদ এর বিপক্ষে আরো দুই প্রার্থী মনোনয়ন জমাদেন। এরা হলেন-বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী ও তরুন ছাত্রলীগ নেতা রিবন আহাম্মেদ বাপ্পী।
এই দু’জনের মধ্যে ২২ ডিসেম্বর সমর্থন সূচক ভোটার যাচাই-বাছাইএ ত্রুটি থাকায় রিবন আহাম্মেদ বাপ্পীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে অপর বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলী সহ সকল কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল থাকে।
মুক্তার আলী বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন,আমি চলমান মেয়র। আমার উন্নয়ন দৃশ্যমান। যদি এমন হতো, আমি কোন উন্নয়ন করিনি ! তাহলে দল আমাকে মনোনয়ন না দিলেও আমার কোন দু:খ থাকতো না।কিন্তু এখানে সেটা হয়নি, তৃণমুলের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক লভিং-গ্রুপিং এর জায়গা থেকে পৌর আ’লীগের সভাপতিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমি আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ গুলো বাস্তবায়নের লক্ষে ভোট করবো এটায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এদিক থেকে এখন পর্যন্ত বিপাকে রয়েছেন আ’লীগের দলীয় প্রার্থী শহিদুজ্জামান শাহীদ। কারণ একই দল থেকে দুই প্রার্থী প্রচারনার মাঠে নামলে তারা দলের তৃণমুল নেতা-কর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। এ কারনে এখন পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ের নেতারা প্রচারনায় নামেন নি বলেও উল্লেখ করেন তৃণমুলের কর্মীরা। তবে শাহীদ দাবি করেছেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিভেদ থাকতেই পারে। সামনে সময় আছে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত হলেও নিজেদের কোন্দল নিরসন করা হবে।
এদিকে সরকারি দলের দুই প্রার্থী অদ্যবধি গনসংযোগ করায় ফুর-ফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী তোজাম্মেল হক।তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, সরকারি দল সমর্থীত দুই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে তার বিজয় সু-নিশ্চিত।
উপজেলা সহকারি রিটারিং অফিসার মুজিবুল আলম জানান, আগামী ১৬ জানয়ারী ২০২১ আড়ানী পৌর নির্বাচন।এখানে প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ ডিসেম্বর। পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮৪। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৮৭৮ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ১০৬ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *