শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাদকে আসক্ত হচ্ছে সীমান্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :  রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত এলাকায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে মাদক সেবনকারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার অভিঙ্গ মহল। করোনা সংকটকে কেন্দ্র করে দির্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তরুন শিক্ষার্থীরা এই নেশার সাথে বেশি আসক্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সীমান্ত এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,বর্তমানে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাচালান বানিজ্য। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন অনায়াসে চলে আসছে মরণ নেশা হাজার-হাজার বোতল ফেন্সিডিল ও ইয়াবা। আর এ সমস্ত মাদক সেবনের সাথে আসক্ত হচ্ছে কমলমতি তরুন শিক্ষার্থীরা।
সীমান্ত এলাকার দু’জন কলেজ শিক্ষক জানান, এ অঞ্চলে মাদক পাচারের জন্য রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট। এদের সংখ্যা বর্তমানে উপজেলার ৬/৭ টি গ্রাম মিলে প্রায় ৩ শতাধিক। এরা রাতের আধারে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হরহামেশে মাদক নিয়ে আসে। বিগত সময়ে এসব মাদকের বড় চালান চলে যেতো রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের অভ্যান্তরে।
তবে বর্তমানে স্থানীয় তরুন যুবক শিক্ষার্থীদের মাদকে-চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে সীমান্ত এলাকার গ্রাম তথা মোড় গুলোয় অনায়াসে পাওয়া যায় সহজ লভ্য ইয়াবা এবং ফেন্সিডিল। এ সব যুবকরা তাদের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার সুবাদে এলাকার বিভিন্ন আম বাগান সহ নিরি-বিলি এলাকায় আস্তানা গেড়ে ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে জোয়া খেলা-সহ মাদক সেবনে আসক্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার অভিঙ্গ মহলের দাবি, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। বাঁচাতে হবে তরুন যুবকদের। সর্বগ্রাসী এ মরণ নেশার কারণে দেশের লাখ লাখ মানুষ বিশেষ করে ১৫ থেকে ২২ বছর গ্রামী যুব সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে অকালে ঝরে পড়ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। এতে করে অনেক অভিভাবকরাও এখন আতঙ্কিত। কখন মাদকের নেশার জালে আটকা পড়ে তাদের প্রিয় সন্তান।
মাদক প্রসঙ্গে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, দেশে মাদক নির্মূল করা আইন শৃংখলা বাহিনী একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি ইতোমধ্যে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক বিরোধী সমাবেশ করেছি। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি অগ্রনী বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *