অ্যাসাইনমেন্টের নামে হাতানো হচ্ছে টাকা দুর্গাপুরে নিয়ম মানছেন না ‘প্রধান শিক্ষক’

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে জারিকৃত নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুর উপজেলার দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নের যুগিশো উচ্চ বিদ্যালয়ে। টিউশন ফি ছাড়াও এসাইনমেন্ট বাবদ অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে আদায় করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক। টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইমেন্ট জমা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, নভেম্বর মাসে মাউশি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, পূর্বাপর বিষয়গুলো বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি গ্রহণ করবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করবে না বা করা হলে তা ফেরত দেবে অথবা তা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করবে। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত টিউশন ফি ছাড়া অতিরিক্ত বিবিধ ফি বাবদ ২০০টাকা আদায় করছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক।
অভিযোগ রয়েছে, মাউশি টিউশন ফি ছাড়া অন্য কোনো উন্নয়ন বাবদ ফি আদায় না করতে বললেও সরকারের নিয়মনীতি অমান্য করে যুগিশো উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক প্রায় সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ টাকা আদায় করা হয়েছে। এতে ৬ষ্ট শ্রেনি’র ১২০, সপ্তম ১৫০, অষ্টম ১৮০ ও নবম শ্রেনির শিক্ষার্থীর কাছে ২০০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে অ্যাসাইমেন্ট জমা নেওয়া হচ্ছে না। আর অ্যাসাইমেন্ট জমা দিতে শিক্ষকরা প্রতিনিয়তই শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করছেন।
ওই স্কুলের নবম শ্রেনির ছাত্র রাজন ইসলাম অভি ও আরিফুল ইসলাম জানান, ‘এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে অ্যাসাইমেন্টের নামে টাকা হাতানো হচ্ছে। করোনার মহামারীতে সরকার কোনো ফি না নেওয়ার আদেশ দিলেও প্রধান শিক্ষক নানা টালবাহনা করে শ্রেনি ভেদে ১২০,১৫০,১৮০.২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিতে পারলে শিক্ষকরা হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে।
যুগিশো উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, অ্যাসাইনমেন্টের নামে কোন টাকা নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে টিউশন ফি বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৮টি স্কুল এভাবে টাকা উত্তোলণ করছে। খবর পেয়েছি, তারপর তাদের দেখে আমরাও টিউশন ফি বাবদ টাকা উত্তোলণ করছি।
জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষকর্মকর্তা জাহিদুল হক জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তবে করোনাকালে অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ বা টিউশন ফি নিতেও আমরা না করেছি। কারণ নগর ও মফস্বল স্কুল গুলোর আলাদা ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। মফস্বলে কোন প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না। ‘অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *