বাঘার খোর্দ্দ বাউসার সেই পাখির বাসার ইজাবার অর্থ বরাদ্দ পেল বাগান মালিক

মোঃ লালন উদ্দীন, বাঘা (রাজশাহীঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা গ্রামে বাগান মালিকদের ক্ষতি পূরণের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবশে বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়রে উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বন অধিদপ্তরের অনুন্নয়ন ক্ষ্যাত থেকে মোট পাঁচজন বাগান মালিক পাখির বাসার জন্য মোট ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ইজারা বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কয়েক বছর থেকে শাবুকখোল অতিথি পাখি এই বাগানে আসায় আম বাগানের ক্ষতি হওয়ায় এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ক্ষাত থেকে বন অধিদপ্তরকে খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে শামুকখোল পাখির বাসার জন্য আমচাষিদের ক্ষতিপুরণ হিসেবে এই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
যে পাঁচজন আমবাগান মালিক এই বরাদ্দ পাচ্ছেন তারা হলেন খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের মঞ্জুর রহমান, সানার উদ্দিন, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও ফারুক আনোয়ার।
শনিবার সকালে এই আমবাগান পরিদর্শন করে পাখির অবস্থা দেখতে আসেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ঢাকার বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জিল্লুর রহমান, রাজশাহী সামাজিক বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক মেহেদী হাসান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার হেলিম রায়হান ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর। এ সময় তারা বাগান মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগান মালিক মঞ্জুর রহমান মুকুল, সানার আলী, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম নান্টু, খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে অতিথি পাখি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাহাদত হোসেন কমিটির সদস্যরা।
এই কর্মকর্তারা জানান, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আমবাগানের মালিকদের আনুষ্টানিকভাবে টাকা দেয়া হবে।
বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষার শেষে শামুকখোল পাখিরা বাচ্চা ফোটানোর আগে খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে বাসা বাঁধে। গত বছর অক্টোবরের শেষে পাখিরা বাচ্চা ফুটিয়েছিল, কিন্তু বাচ্চা উড়তে শিখেনি- এই অবস্থায় আমবাগানের ইজারাদার বাগানের পরিচর্যা করতে চান। তিনি বাসা ভেঙে আমগাছ খালি করতে চান। একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙেও দেন। স্থানীয় পাখিপ্রেমী কিছু মানুষ তাকে বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। অন্তত যতদিন বাচ্চারা উড়তে না শেখে। তাদের অনুরোধে তিনি পাখিদের বাসা ছাড়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন। ওই দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আরজি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত স্বতঃপ্রনোদিত রুলসহ এক আদেশে বলেন, কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ঘোষিত আদেশে বলা হয়েছে এলাকাটি অভয়ারন্য ঘোষণা করা হলে বাগান মালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমান নিরূপন করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এ নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতানকে আহবায়ক করে ও বনবিভাগ সহকারী বনসংরক্ষক মেহেদী হাসানকে আহবায়ক করে অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা পাখির বাসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি আমগাছ চিহ্নিত করে। তারা ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করে। তাদের প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল পাখি থাকা সাপেক্ষে ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে, পাখিরা সব সময় একই জায়গায় বাসা বাঁধে না। কয়েক বছর পর তারা নতুন জায়গায় চলে যায়। প্রস্তাবনায় বলা হয়, পাখির বিষ্টায় স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়ে এ ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। পাখির অসুস্থতার ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে হবে সর্বোপরি পাখি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। তাদের উৎসাহিত করার জন্য সেমিনার সিম্পোজিয়াম করতে হবে ও উপহার সামগ্রী দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *