বাঘার আলোচিত শর্মিঠা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী গ্রেফতার,প্রধান আসামী প্রবাসে !

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বহুল আলোচিত শর্মিঠা রানী আতœহত্যা পরোচনা মামলার প্রধান আসামী স্কুল শিক্ষক শ্রী সুকান্ত সাহাকে গ্রেফতার করেছে সি.আই.ডি। ঘটনার তিন বছর পর বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর ২০২০) রাতে উপজেলার নারায়পুর বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলার দ্বিতীয় আসামী শর্মিঠার দেবর সোমেন শাহা বর্তমানে প্রবাসে আবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর বাঘা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক শ্রী সুকান্ত সাহা (৩২) এর ঘরে গলাই উড়না বেধে আতœহত্যা করে তার স্ত্রী শর্মিঠা রানী। এ ঘটনার এক মাস ১০ দিন পর স্বামী,দেবর এবং শাশুড়ি-সহ তিনজনকে আসামী করে আদালতে আতœহত্যার পরোচনা মামলা দায়ের করেন শর্মিঠার পিতা শ্রী সুনীল কুমার সাহা।
মামলার দুইমাস পর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শরীলের তিন জায়গায় আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়। ফলে বিষয়টি আমলে নিয়ে বাঘা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে এ মামলা বাদির পক্ষে চুড়ান্ত রিপোর্ট না দিয়ে আসামীদের পক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন।
এরপর শুরু হয় আন্দোলন। রাজশাহী শহরে শর্মিটার পক্ষে মানব বন্ধর থেকে শুরু করে সমাবেশ করে বিভিন্ন মহল। এ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়। এরই মাঝে মহামান্য আদালতে থানা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনের বিপক্ষে না রাজি আবেদন করেন শর্মিঠার পিতা। ফলে আদালত থেকে মামলাটি পুন:রায় তদন্তের ভার দেয়া হয় পি.বি.আই-কে।
রাজশাহী পি.বি.আই ইনেস্পেক্টর ফাছির উদ্দিন সরেজমিন তদন্তে এসে স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, কোন মানুষ আপনা-আপনি আতœহত্যার পথ বেছে নেয়না। এর পেছনে যে কোন করণ থাকে। তিনি সেই কারণ তথা রহস্য বের করে ন্যায়ের পক্ষে রাই দিবেন। কিন্তু সেখানেও ঘটে নানা বিপত্তি। এরই মাঝে প্রবাসে পাড়ি জমায় এ মামলার দ্বিতীয় আসামী সোমেন সাহা। অত:পর এ মামলার দায়িত্ব দেয়া হয় সি.আই.ডি.কে। তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তর তদন্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে মামলার প্রধান আসামী সুকান্ত সাহাকে নারায়নপুর বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। যার সত্যতা স্বীকার করেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আনেস উদ্দিন।
শর্মিঠার ভাই শ্রী-সুভ্রত তার বোনের শরীলে দাগ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার দিন বাড়িতে কেও না থাকার সুবাদে সোমেন শা (দেবর) তার বোন শর্মিঠাকে ক্ষতিকরার চেষ্টা করে। কিন্তু এর বিচার না করে উল্টো তার গায়ে হাত তুলে স্বামী সুকান্ত সাহা। আর এ লজ্জায় শর্মিঠা আতœহত্যা করে জীবনের জালা মিটায়। এর কিছুদিন না যেতে দ্রুত প্রবাসে পাড়ি জমায় মামলার ২ নং আসামী সোমেন শাহ্।
প্রসঙ্গত তিন বছর পুর্বে বাঘা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী অজিত সাহার ছেলে স্কুল শিক্ষক শ্রী সুকান্ত সাহার সাথে রাজশাহী শহরের বাসিন্দা শ্রী সুনীল কুমার সাহার কলেজ (মাস্টার্স) পড়–য়া মেয়ে শর্মিঠার বিয়ে হয়। এই বিয়ের পর থেকে শাশুড়ী এবং দেবরের কারনে পারিবারিক কোলহে ভুগছিল তার মেয়ে। এ ছাড়াও সুকান্ত যে স্কুলে চাকরি করে সেই প্রতিষ্ঠানে তার ছোট ভাই সোমেন সাহাকে বাদ দিয়ে শশুরের টাকায় শর্মিঠাকে কম্পিউটার বিষয়ে চাকরিতে সুযোগ করে দেওয়ায় পরিবারের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করছিল। এই অশান্তিই এক সময় কালহয় শর্মিঠার জীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *