নাচোলে রোপা আমন ধান কাটার উৎসব বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি 

নাচোল প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে  রোপা আমন খরিপ-২ মৌসুমে ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক – কৃষাণীরা।
এবারে ধানে ভালোদাম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। মাঠের যেদিকে তাকাই সেদিকে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা প্রথম ধাপে ধানের মূল্য বেশী পেলেও ধীরে ধীরে দাম কমে অর্ধেকে এসে দাঁড়াই। ফলে কৃষকরা ধান চাষে সার ও শ্রমিকের মূল্য সব মিলে ধান উৎপাদন খরচ পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো। এমন কি ঋণ কর্জ করে ধার পরিশোধ করতে হতো।
কিন্তু এ বছর ধানের কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য থাকায় খুশিতে সময় পার করছে কৃষকরা। নিজামপুর গ্রামের কৃষক রহিম জানান ৫বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছি বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ৭হাজার টাকা থেকে ৮হাজার টাকা হয়েছে। এ বছর ধানের দাম থাকায় খরচ বাদে ভালো লাভ থাকবে। তার প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ১৮থেকে ১৯ মন। ধান ব্যবসায়ী তরিকুল জানান, এখনো  আমরা পুরোদমে ধান কেনা বেচা শুরু করিনি। তবে প্রতিমণ ধান ১১শ’ থেকে ১১শ’ ৫০টাকায় বেচা কেনা চলছে।
নাচোল উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, এ বছর রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৪শ’ ৬৫হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে ২৩হাজার ১শ’ ৬০ হেক্টর। উপজেলায় মোট আবাদি জমি প্রায় ২৫হাজার হেক্টর এর মধ্যে প্রায় ৩শ’হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফলের বাগানের চাষ হচ্ছে।
বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণা, ব্রিধান-৫১ ও ৫২, জিরাশাইল। এবছর বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হচ্ছে ১৮থেকে ১৯মণ ফলে উপজেলায় মোট আবাদী জমিতে ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩লক্ষ ৩শ’ মণ ধরা হয়েছে। এতে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় রপ্তানি করা যাবে বলে আশা করছি।
তিনি আর ও জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা একই জমিতে ধান চাষ করতে পেরে লাভবান হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্য রোপা আমন ধান সহজে কৃষকরা বেচাকেনা করতে পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *