নওগাঁয় কৃষি ক্ষেত্রে মঞ্জুরীকৃত প্রনোদনার টাকা দিতে এক্সিম ব্যাংকের অনীহা:  কৃষক হয়রানী 

নওগাঁ প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের কারনে কৃষিক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের বিশেষ প্রনোদনাপ্রাপ্ত একজন গ্রাহককে ঋণের বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরনে এক্সিম ব্যাংক নওগাঁ শাখা ব্যপক হয়রানী করছে। ঋন মঞ্জুরীর ২ মাস অতিবাহিত হলেও বরাদ্দকৃত টাকা প্রদান করা হয় নি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ড্রিল সম্পন্ন করার কথা থাকলেও দিনের পর দিন তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে। এর ফলে ঐ কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

জানা গেছে নওগাঁ’র এস আর মৎস্য খামারের মালিক মোঃ সাইদুর রহমান, দুবলহাটি রোড, নওগাঁ একজন স্বনামধন্য মৎস্য খামারী। তিনি মৎস্য হ্যাচারীতে রেনুপোনা উৎপাদন ও পুকুরে মৎস্য চাষের পাশাপাশি গবাদিপশু প্রতিপালন করে থাকেন। তাঁর ১শ বিঘা মৎস্য প্রজেক্ট রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সফলতার স্বীকৃতিস্বরুপ ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার, ২০০৫ সালে জাতীয় মৎস্য পুরস্কার এবং ২০০৬ সালে জাতীয় যুব পুরস্কার পেয়েছেন।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী তিনি গত ৭ সেপ্টেম্বর’২০২০ তারিখে এক্সিম ব্যাংক নওগাঁ শাখায় প্রনোদানা ঋন পাওয়ার আবেদন করেন। সিকিউরিটিস্বরুপ ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা মুল্যের সম্পত্তির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র দাখিল করেন। যাচাই বাছাই অন্তে গত ২১শে সেপ্টেম্বর এক্সিম ব্যাংক প্রধান দপ্তর উক্ত সাইদুর রহমানের এস আর মৎস্য খামারের অনুকুলে কৃষি প্রনোদনা ঋন হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা মঞ্জুরী প্রদান করে। এই মঞ্জুরীর প্রেক্ষিতে এক্সিম ব্যাংক নওগাঁ শাখা’র পত্র নম্বর এক্সিম/নওগাঁ/আইএনভি/২০২০/৯৭১ তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর’২০২০ মোতাবেক একটি মঞ্জুরীপত্র প্রদান করা হয়। মোট ১২টি শর্ত পুরন করে সাইদুর রহমানের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। গ৩ ২৮ সেপ্টেম্বর’২০২০ তারিখে তাঁর হিসাব নং ০৯১১১১০০০৩৪৬৮১ থেকে ফারদার চার্জ হিসেবে ১হাজার টাকা এবং ষ্ট্যাম্প খরচ বাবদ আরও ৩শ টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। সবগুলো টার্মস এন্ড কন্ডিশন পূর্ণ হওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা এই ড্রিল সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়ে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে এই ড্রিল সম্পন্ন করা হয় না। উক্ত সাইদুর রহমানকে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে। অথচ মঞ্জুরীপত্রে উল্লেখ রয়েছে মঞ্জুর হওয়ার পর থেকে ৬০ দিনে মধ্যে যদি ড্রিল সম্পন্ন না হয় তাহলে মঞ্জুরীপত্র বাতিল হয়ে যাবে। মঞ্জুরী’র তারিখ গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৩ নভেম্বর এই ৬০ দিন শেষ হয়ে যাবে। কাজেই উক্ত সাইদুর রহমানের প্রনোদনা প্রাপ্তি নিয়ে সংশয় দেখা ািদয়েছে। অপরদিকে সময়মত উপযুক্ত পরিমান খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী যোগান না দিলে ব্যবসার অপুরনীয় ক্ষতি সাধিত হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া এই প্রনোদনা তাঁর কোন কাজেই আসবে না।

দিনের পার দিন ব্যাংকে ধন্যা দিয়ে প্রনাদানার টাকা উত্তোলন করতে না পেরে উক্ত সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এক্সিম ব্যাংকের প্রধান দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এক্সিম ব্যাংক নওগাঁ শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা এ ব্যপারে বলেছেন ব্যবস্থাপক অসুস্থজনিত কারনে ছুটিতে থাকায় প্রনোদনার টাকা বরাদ্দ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরন করা হবে। কোন অসুবিধা নাই। উল্লেখ্য ব্যবস্থাপক ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে উক্ত মঞ্জুরীপত্রে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক হিসেবে উক্ত সেলিম রেজা নিজেই স্বাক্ষর করেন। তাহলে টাকা বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকের অনুপস্থিতি অন্তরায় কেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *