বঙ্গবন্ধু টি-২০ তে সুযোগ না পেয়ে দুর্গাপুরে উদীয়মান ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ- টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টে তালিকায় নাম না থাকায় হতাশায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট অনুর্ধ্ব ১৯ দলের সদস্য সজিবুল ইসলাম (২৩) গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে। সজিবুল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা ঝাঁলুকা ইউনিয়নের আমগাছী গ্রামের মোকছেদুর রহমানের ছেলে। সে জাতীয় টিম অনূর্ধ্ব ১৫, ১৭ ও ১৯ দলের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি রাজশাহী সরকারী কলেজেরে অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। শনিবার দিবাগত রাত এ সজিবুল নিজঘরে আতœহত্যা করেন। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, সজিবুল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট অনুর্ধ্ব ১৯ দলের সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ- টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টে খেলার প্রত্যাশায় ছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ভাবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ- টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টে তার নাম থাকায় সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন ও হতাশা গ্রস্ত ছিলেন। শনিবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১০ টার দিকে সজিবুল রাতের খাবার না খেয়েই ঘরের দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পর দিন রোববার সকালে সজিবুল ঘুম থেকে না উঠায় তার বাবা ডাকাডাকি শুরু করেন। এ সময় পরিবার লোকজন জানালা দিয়ে দেখতে পান সে নিজ ঘরের তীরের সাথে গলায় রশি বেধে ঝুলিয়ে আছে। এ সময় পরিবার ও স্থানীয় লোকজন নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে সজিবুলের মরদেহ দঁড়ি থেকে নামানো হয়।
সজিবুলের বড় ভাই তশিকুল ইসলাম জানান, তার ভাই সজিবুল ছোটবেলা থেকে ছিলো ক্রিকেট খেলার প্রতি ভীষণ আসক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত খেলাধুলার কারনে পরিবারের কাছে থেকে বোকা খেতেন। এক সময় সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেতে রাজশাহী কাটাখালী বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন। এরপর থেকে তার অগ্রযাত্রা শুরু হয়। তার অসাধারণ নৈপূন্যে সে বাংলাদেশ জাতীয় দল অনূর্ধ্ব ১৫, ১৭ ও ১৯ দলে খেলেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে এশিয়া কাপে শ্রীলংকার মাটিতে বেশ কয়েকটি দলের সাথে খেলেছেন। এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়ে সে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করে সেই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৫ রান সংগ্রহ করে ছিলেন। তিনি অনুধ্ব ১৯ দলের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে দলের মধ্যে সে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। সা¤প্রতিক সময়ে সজীব বঙ্গবন্ধু টি-২০ গোল্ড কাপে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অংশগ্রহনের জন্য সকল প্রকার পরীক্ষাও দিয়েছিলেন তিনি। গত ১৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে উত্তীর্ণ খেলোয়াড়দের তালিকায় প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় তার নাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন সজিবুল।
জানতে চাইলে নবাগত দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসমত আলী জানান, উদীয়মান ক্রিকেটার সজিবুল সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ড কাপ- টি২০ ক্রিকেট টুনামেন্টে ডাক না পাওয়ায় হতাশায় আতœহত্যা করেছেন। কোন অভিযোগ না থাকায় পরিবারের আবেদেনের ভিত্তিতে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে সজিবুলকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *