বাগমারায় ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগে

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা:  রাজশাহীর বাগমারার বড়বিহানালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৪ জন শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি করেছেন বড়বিহানালী ইউনিয়নের মন্দিয়াল গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম। অভিযোগের অনুলিপি বাগমারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিজি ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাগমারার বড়বিহানালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভোকেশনাল শাখায় ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর পদে আশরাফুল ইসলাম, সদের উদ্দিন, মুনছুর রহমান ও সাইদুর রহমান নামে ৪ জন ব্যক্তি জাল সনদের মাধ্যমে ২০০৪ সালে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ গ্রহণ করেন এবং একই সালে তারা এমপিওভূক্তহন। এরপর থেকেই তারা নিয়োমিতভাবে সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন।
সূত্র মতে, আশরাফুল ইসলাম ১৯৯০ সালে এবং সদের উদ্দিন ২০০০ সালে পাবনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল টেকনোলজি পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূয়া সনদ তৈরি করে বড়বিহানালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভোকেশনাল শাখায় ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ গ্রহণ করেন। অপরদিকে মুনছুর রহমান ও সাইদুর রহমান ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সাভার, ঢাকা থেকে ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন মর্মে ভূয়া প্রশিক্ষণ সনদ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ট্রেডে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ গ্রহণ করেন। নিজেদের তৈরি করা ভূয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তারা এমপিওভূক্ত শিক্ষক হিসাবে অবৈধভাবে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন এবং সরকারী অর্থ আতœসাৎ করে আসছেন।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আজিজার রহমান অভিযোগ করেন, এর আগেও ভূয়া সনদধারী ওই ৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আবারো নতুনভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
বড়বিহানালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ হিসাবে আমি নিয়োগ বোর্ডেও মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু তাদের সার্টিফিকেট জাল না সঠিক তা যাচাই করার এখতিয়ার আমার নেই। তবে তদন্তে তাদের সনদ জাল প্রমাণ হলে আমিও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, বড়বিহানালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৪ জন শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন বলে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *