নাচোলে মিশ্র ফলের বাগানে বারোমাসি তরমুজ চাষে সফল প্রকৌশলী মিজানুর

মতিউর রহমান, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মিশ্র ফলের বাগানে বারোমাসি ব্ল্যাক কেনিয়া, গোল্ডেন ক্রাউন, জাতের তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।
নতুন জাতের তরমুজ জেলায় প্রথম চাষ হয়েছে, (উজ্জ্বল সোনালী) হলুদ ও কালো সবুজ। প্রকৌশলী মিজানুর রহমান প্রথম ধাপেই প্রায় ৮০হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট গ্রামের সন্তান।  বর্তমানে তিনি গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রকৌশলী পদে চাকরি করেন। ২০১৭সালে হজ করে এসে কৃষিকাজ করার উদ্যোগ নেই এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে নাচোল উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়ন এর ঘাসুড়া মৌজায় ১৪বছর মেয়াদে বিঘা প্রতি ১২হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন।
 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সহযোগিতায় মিশ্র ফলের বাগান এর মধ্যে ২০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। এর মধ্যে গোল্ডেন ক্রাউন (উজ্জ্বল হলুদ) রঙের, ব্ল্যাকবেরি ও  কেনিয়া  জাত রয়েছে। ঢাকার ব্যাপারীরা খেতে এসে তরমুজ নিয়ে গেছেন বাগানে তরমুজ চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের কমলা চাইনা, দার্জিলিং ও সাদিকা তিন হাজার চারা বপন করা হয়েছে। বারি মাল্টা ১২শ’ এবং মিশরীয় ১হাজার চারা রোপন করা হয়। উন্নত জাতের আম চারা এর মধ্যে রয়েছে গৌমতী ১৫শ’, বেনানা ৫শ’, বারি-৮, ৫শ’,  কাটিমন বারোমাসি ২হসজার, বারি -১১ ২হাজার,রুপালি ১২শ’ চারা রোপণ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফল পার্সিমন ২শ’, আমেরিকান ফল অ্যাভোকাডো ২শ’ চারা রয়েছে। বাহারি জাতের খেজুর ২শ’, ভিয়েতনামী খীয়াম ও গ্রীন কেরালা জাতের নারিকেল চারা। এছাড়া বাগানে উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো চাষ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান জানান, চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ইউটিউবে কৃষিকাজ সংক্রান্ত ভিডিও দেখতাম। প্রথমে গ্রামের নিজ জমিতে চাষ শুরু করি এরপর নাচোল কৃষি  অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সহযোগিতায় ফলের বাগান শুরু করি। তরমুজ ব্লাকবেরি জীবনকাল ৫০ দিন  এবং থাইল্যান্ডের কেনিয়া জীবনকাল ৭০ দিন এরবীজ সংগ্রহ করে খেতে বপন করে   পরিচর্যা শেষে ফল সংগ্রহ করেছি। তিনি জানান, ঢাকার ব্যাপারীর সাথে যোগাযোগ করে তারা খেতে এসে তরমুজ ক্রয় করেছে। বর্তমানে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্লাকবেরি, কেনিয়া জাতের প্রায় ৭০থেকে ৮০ মণ তরমুজ বিক্রি করতে পারব। এছাড়া বেগুন, টমেটো এবং সুন্দরী জাত ও সীডলেস বীজবিহীন বরই বিক্রি করতেন  পারব।
মিশ্র ফলের বাগান  শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কৃষি উপ সহকারী আবুল কালাম আজাদ জানান, ফলের বাগানের মাঝে অসময়ে ভাল জাতের বেগুন, টমেটো চাষ করতে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় বাগান ভালো রাখার নানা কৌশল, পোকামাকড় দমন সম্পর্কে মিজানুর রহমানকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া  হচ্ছে। এতে করে জেলার মধ্যে ভালো মানের একটি মিশ্র ফলের বাগান গড়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, নাচোলের মাটিতে মালটা, কমলা, তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাই ধান চাষের পাশাপাশি মিশ্র ফলের বাগান করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, এতে করে কৃষকরা ধান চাষের চেয়ে মিশ্র ফলের বাগান করে বেশি লাভবান হবে। এছাড়া তরমুজ,   মালটা, কমলা, পেয়ারা, বরই, টমেটোতে পুষ্টিগুণও অনেক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *