পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা: অবশেষে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশ এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। মিথ্যা পরিচয়দানকারী পাবনার জেলার আমিনপুর থানাধীন চক আব্দুল শুকুর এলাকা থেকে ফারুক হোসেন ওরফে ফিটু (৪২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাদের শেখের ছেলে।  তার বিরুদ্ধে মহানগরীর রাজপাড়া থানায় ধারা-২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর ২৪(১) এর (ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।  আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদ রানা, রাজপাড়া থানা, আরএমপি, রাজশাহী অভিযোগ করেন যে, গত ২৯/০৯/২০২০ তারিখ সকাল অনুমান  সকাল সাড়ে ১০টায় ওসি (তদন্ত) রাজপাড়া থানার মাসুদ আলম এর পরিচয় দিয়ে ৪ (চার) টি মোবাইল নম্বর থেকে রাজপাড়া থানাধীন তেরখাদিয়া ডাবতলা মোড়ে অবস্থানকারীসহ আশে পাশের এলাকার ৩ (তিন) জন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে ফোনকরে বলে যে, আপনি পত্রিকায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন সেটার তদন্ত, উদ্ধার কার্যের জন্য এবং উদ্ধারকৃত ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য কিছু খরচের প্রয়োজন বলে টাকার দাবি করে। পরে উক্ত নম্বরের ব্যক্তিগণ থানায় অবহিত করলে দেখা যায় যে, উক্ত বিষয়টি সর্ম্পকে এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদ রানা ও থানা কর্তৃপক্ষের কেউই অবগত নয়। পরবর্তীতে উক্ত মিথ্যা পরিচয় দানকারী ব্যক্তির মোবাইল নম্বরগুলো আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটে প্রেরণ করলে, সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রায় ২১ (একুশ) দিন সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত মিথ্যা পরিচয় দানকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ও আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তত্বাবধানে, প্রযুক্তির সহায়তায় রাজপাড়া থানা পুলিশ ও পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতায় শনাক্তকৃত মিথ্যা পরিচয় দানকারী মোঃ ফারুক হোসেন @ফিটু (৪২) কে পাবনার জেলার আমিনপুর থানাধীন চক আব্দুল শুকুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মিথ্যা পরিচয় দানকারী  ফারুক হোসেন @ফিটুকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সকল তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া যায় যে, ফারুক হোসেন @ ফিটু পাবনা কাজির হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে।এরপর সে ২০০১ সালে ঢাকায় গিয়ে টপিক্যাল সিকিউরিটি হোম’স লিমিটেড নামক সিকিউরিটি কোম্পানিতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাকুরী করে। ২০০৯ সালের পরে সে বাসায় চলে আসে এবং ২০১২ সালে আবার ঢাকায় যায়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ ঢাকার বিভিন্ন যায়গায় চা বিক্রি করে। ২০১৭ সাল থেকে তাকে গ্রেফতারের পূর্ব অবধি সে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণা পূর্বক অর্থ আদায় করে আসছে। তার কাছ থেকে মোট ৩ টি মোবাইল ফোন, ৫ টি সিম কার্ড ও প্রতারণা পূর্বক অর্থ আদায়ের ৭৬৭০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। সাইবার ক্রাইম ইউনিট এখন পর্যন্ত তার ব্যবহৃত ১৬ টি মোবাইল ও ২৪ সিম কার্ড ব্যবহারের সন্ধান পেয়েছে। মিথ্যা পরিচয় দানকারী  ফারুক হোসেন তিন/চার মাস পরপর সিম কার্ড ও মোবাইল পরিবর্তন করে বলে, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(সদর) মোঃ গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *