পাঠ্যপুস্তকে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সব পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলেছি। শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে কারিকুলামে ব্যাপক পরিবর্তন আনছি। শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ খুব জরুরি, আমরা সে বিষয়েও কাজ করছি। একই সঙ্গে লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনাকালে অনলাইন এডুকেশন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে, করোনা পরবর্তীতেও আমাদের অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম অংশ থাকবে। এর থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

জিপিএ-৫ নিয়ে উন্মাদনা শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের উপরে যে সামাজিক-পারিবারিক চাপ তৈরি করে সেটি শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও সুখকর নয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিটি যেন এই ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সেজন্য মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু বড় সমস্যার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর একটি অতিরিক্ত পরীক্ষা নির্ভরতা। পরীক্ষা মানেই একটা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, একটা বোঝা। সেটি শুধু শিক্ষার্থীর জন্য নয়, তাদের অভিভাবকদের জন্য, সবার জন্য, পুরো সিস্টেমের জন্য। তার সঙ্গে একটা সনদ সর্বস্ব ব্যাপার আছে- একটা সার্টিফিকেট পেতে হবে। কিন্তু সেই সার্টিফিকেটের সঙ্গে, একটা কাগজের সঙ্গে আর কী পাচ্ছি? কী দক্ষতা যোগ্যতা পাচ্ছি কিনা?

শিক্ষার্থীর উপরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সামাজিক চাপও কিন্তু আমাদের আছে। এই যে একটা জিপিএ-৫ নিয়ে উন্মাদনা এবং তা যে সামাজিক-পারিবারিক চাপ একটা তৈরি করে শিক্ষার্থী-পরিবারের উপরে, সেটি কিন্তু আমি মোটেই মনে করি না শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এবং সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব সুখকর। কাজেই মূল্যায়ন পদ্ধতিটি যেন এই ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে আমরা সেই বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর কোনো সরকারই সেভাবে শিক্ষায় গুরুত্ব দেননি। গত কয়েক বছরে শিক্ষার যে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে তা তারই কন্যার কারণে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষায় বড় ধরনের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। সামনে ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করতে যাচ্ছি। আমরা গুণগত শিক্ষা দিতে পারব।

ইরাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *