নাচোলে ইলা মিত্রের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নাচোল প্রতিনিধিঃ  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে  তে – ভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

১৩অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় পঞ্চানন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন কেন্দুয়া ইলা মিত্র স্মৃতিসৌধে নাচোল ইলামিত্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়।
 উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাবিহা সুলতানা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, নাচোল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, মহিলা কলেজ  অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা, দৈনিক গৌড় বাংলা সম্পাদক  হাসিব হোসেন, নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের বক্তারা ইলামিত্রের কর্ম জীবনী ও তে -ভাগা আন্দোলনের দৃশ্য পট  তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ১৯৫২সালের ১৮অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস ছিল  যশোর জেলার ঝিনাইদহের বাহুটিয়া  গ্রামের গগেন্দ্রনাথ সেনের কন্যা ইলামিত্র। পিতার চাকরির সুবাদে পরিবারের সকলে কলকাতায় থাকতেন। ইলা মিত্র কলকাতার বেথুন স্কুল ও কলেজে শিক্ষা অর্জন করেন।
১৯৪০সালে জাপানি অলিম্পিক গেমসে প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়। ১৯৪৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মহিম চন্দ্রের পুত্র রমেন মিত্রের সাথে বিয়ে হয়। ইলা মিত্র ছাত্রজীবনে কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।
 ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০সাল পর্যন্ত তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে তে -ভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে জমিদারদের সাথে ফসল উৎপাদনের কোন সম্পর্ক ছিল না। এসময় জমিদার ও কৃষকের মাঝে জোতদার নামে  মধ্যস্থত ভোগী একশ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এতে করে ফসল উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকরা বহন করলেও যেহেতু জমির মালিক নন সেই অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোরদারদের হাতে।
একসময় উৎপাদিত ফসলের পরিবর্তে কৃষককে বাধ্য করেছিল অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকরা মহাজনদের নিকট বাধ্য হতো ঋণ নিতে।
জমিদার ও জোতদারদের এই শোষণের কারণে কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্মদেয়। হাজার ১৯৩৬ সালে গঠিত হয় সর্বভারতীয় কৃষক সমিতি। ১৯৪০সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় বাংলার ভূমি  সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দেয় “ফাউন্ডেশন” কমিশন এদের জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করে চাষীদের সরাসরি সরকারের প্রজারা এবং উৎপাদিত ফসলের তিনভাগের দুইভাগ এর মালিকানা প্রদান করা।
 ১৯৪৯ সালে ইলা মিত্র নাচোলের নিজামপুর ইউনিয়ন এর চন্ডিপুর, রাওতারা, ধরমপুর, কেন্দুয়া -ঘ এলাড়া এলাকায় আদিবাসী সাঁওতাল ও কৃষকদের নিয়ে তে -ভাগা আন্দোলন করেন।
১৯৫০ সালের ৭জানুয়ারি রহনপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ইলা মিত্রকে গ্রেপ্তার করে। একদিন পরে নাচোল যাবার পথে পুলিশ  নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। তার এমন কোন জায়গা ছিল না যেখানে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলে কলকাতায় ফিরে যায় এবং সুস্থ হয়ে সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসরে যান। ১৯৬২সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ৪বার মানিকতলা নির্বাচনী এলাকা থেকে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়।
এছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৬২ সাল থেকে ২০০২সাল পর্যন্তছিলেন। ইলা মিত্র ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *