রাসিক ১৯ নং ওয়ার্ডে ত্রান দিতে মানা

নির্বাচনী প্রতিপক্ষ ভেবে ত্রাণ বিতরণের তালিকা করতে বাধা দিলেন বর্তমান কমিশনার
নিজস্ব প্রতিনিধি (রাজশাহী) :-রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার এর চলছে একনায়কতন্ত্র কার্যক্রম। এ ওয়ার্ডে কেউ সমাজসেবামূলক কাজ করতে গেলে বাধা দেয়া হয় তাকে। এমন কি তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভেবে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এর ফলে এওয়ার্ড দিতে বাইরের কোনো লোকজন সেবামূলক কাজ বা ত্রাণ দিতে সাহস পায়না।
এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ৯ জুলাই  শুক্রবার বিকেলে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ এহিয়ার ছেলে সমাজসেবক , প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার ও রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশরাফ বাবু জন্মসূত্রে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মহামারীর দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী আহবানে তিনি বিভিন্ন সময়ে এই ওয়ার্ডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মহীন দুস্থদের মাঝে সাধ্যমত ত্রান বিতরণ করে আসছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ৯ জুলাই শুক্রবার বিকেলে  ওয়ার্ডের ছোটবনগ্রাম মসজিদ পাড়ায় সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য ঐ মহল্লার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি কে নিয়ে তালিকা করতে গেলে ,বর্তমান কমিশনার তৌহিদুল হক সুমনের নির্দেশে তার লোকজন তাদের উপর চড়া হয় এবং মারমুখী আচরণ করে। এতেও ক্ষান্ত হননি, বিষয়টি তিনি থানায় পর্যন্ত নিয়ে যান, মামলাও করেন।এই মহৎ কাজকে বর্তমান কমিশনার নির্বাচনী প্রচার জনসভা বলে প্রচার করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।
এলাকাবাসী বলছেন, বর্তমান কমিশনার তৈহিদুল হক সুমন, সমাজসেবক আশারাফ বাবুকে আগামী সিটি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করছেন।
যার কারণেই আশরাফ বাবু এলাকায় কোন সেবামূলক কাজ করতে গেলে লেলিয়ে দেয় তার মাস্তান বাহিনীকে।
স্থানীয়রা বলছেন বর্তমান কমিশনার শহীদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে নৈতিক চরিত্র সহ নানা বিধ  অভিযোগ রয়েছে। যা এলাকাবাসিসহ রাজশাহী মহানগরী, এমনকি সারা দেশের লোক সকলেই জানে।
তিনি শিশু বলাৎকারে পারদর্শী, তার এলাকায় সুন্দর কোনো শিশু ,সে নারী বা পুরুষ তাকে যে কোন কৌশলে তাকে সে বলাৎকার করবেই, এমন প্রবাদ আছে এই ওয়ার্ডে।
তার বিরুদ্ধে থানায় শিশু বলাৎকার এর মামলা চলমান রয়েছে।এলাকায় থাকে পুঁটকি সুমন বলে ডাকা হয়।
এছাড়া, অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে কৌশলে বহু নারীর সম্ভ্রম নষ্ট করার অভিযোগও আছে তার উপর।
ঘটনাটির বিষয়ে মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার আশরাফ বাবু বলেন, আমি কাউরি চরিত্র হরণ বা কারো কুৎসা করার অভ্যাস আমাদের নেই। এ ওয়ার্ডে কার কেমন চরিত্র এলাকাবাসি ভালো জানে।
আমি এই ওয়ার্ডের সন্তান, এলাকার প্রত্যেকটি মানুষের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ।আমি  বড়দেরকে সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করি।
নিজের দায়িত্ববোধ থেকে আমি সাধ্যমত এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করে থাকি।
বর্তমানে মহামারী করোনার জন্য লকডাউনে মানুষ ঘরবন্দি ও কর্ম হীন।
তিনি আরো জানান এই দুর্যোগ মুহূর্তে সরাসরি ত্রাণ দিতে গেলে জনসংখ্যা বেড়ে যায় ,ধাক্কাধাক্কি এমনকি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ফলে করোণা সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
যার কারণে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শৃংখলার সহিত ত্রান বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে তালিকা তৈরি করার জন্য ওই মহল্লার কয়েকজন মুরুব্বীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার লোকজন লিস্ট তৈরি করার সময় বর্তমান কমিশনার সুমন তাকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে ,তার লোক যোনির উপর লেলিয়ে দেন তার মাস্তান বাহিনী। এমনকি এওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন মহিলা কর্মীদেরকে ব্যবহার করে।
তিনি আরো বলেন,একটি স্বার্থনিশি মহল অপপ্রচার করছে তিনি নাকি নির্বাচনে সভা করছিলেন।
 এই ত্রান বিতরন অনুষ্ঠানে বাঁধা দিতে কুচক্রী মহলের ইন্দনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিছন্ন কর্মী ও স্থানীয় মহিলাদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আশরাফ বাবু।
বর্তমান  ১৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার তহিদুল ইসলাম সুমণের নিকট মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,, আশরাফ বাবু ত্রাণ বিতরণ এর  অজুহাতে ছোট বনগ্রাম মসজিদ বাড়ায় নির্বাচনী সমাগম করছিলেন এবং এই সমাবেশে তার নামে কটুক্তি করছিলেন।এতে তার লোকজন নিষেধ করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে তিনি ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে এলাকাবাসীকে লোক পাঠিয়ে সহায়তা করেছে মাত্র। তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেননা।
এদিকে ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায় মারমুখী আচারণের ঐ নারী প্রভাবিত হয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ বিষয়ে আশরাফ বাবু বলেন, আমার ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বাঁধা সৃষ্টি করতে ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়। বাঁধা দিতে সে নারীদের ব্যবহার করেন। ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা অফিসার ইনচার্জ সিরাজুম মুনীর বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *