খবররাজনীতিরাজশাহীলীড

রাসিকে নৌকার বিরুদ্ধে মেয়র প্রার্থী’ দিচ্ছে বিএনপি জামায়াতসহ আ:লীগের এক অংশ

রাজশাহী প্রতিনিধি  :-  রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে প্রচারে জোর দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন দলীয় সমর্থকরা। এর মধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে, লিটনের বিপক্ষে ‘শক্তিশালী মেয়র প্রার্থী’ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াতসহ ‘লিটনবিরোধী’ খোদ আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট। স্থানীয় নেতারা বলছেন, লিটনের বিপক্ষে প্রথমে স্থানীয় এক প্রবীণ নেতাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি সে প্রস্তাব নাকচ করলে বিএনপির সাবেক এক সংসদ সদস্যের ছোট ভাইকে মেয়র পদে দাঁড় করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লিটনকে দলীয় মনোনয়ন দেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা। এর পরই প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেন লিটন। নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় কোনো প্রার্থী দেবে না বলে আসছে বিএনপি। এমনকি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও দলটির কেউ অংশ নেবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে জোরেশোরেই গুঞ্জন উঠেছে, নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে শক্তিশালী মেয়র প্রার্থী দাঁড় করানো হচ্ছে। এরই মধ্যে লিটনবিরোধী আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর স্থানীয় বিএনপি সেই প্রার্থী ঠিক করার কাজটি করছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, লিটনের বিপক্ষে প্রথমে রাজশাহীর এক প্রবীণ নেতার কাছে মেয়র পদে দাঁড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ওই সূত্র বলছে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ লিটনবিরোধী বেশ কয়েকজন ও বিএনপির নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সম্পাদক সাঈদ হাসানকে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর চিন্তাভাবনা চলছে। সাহিদ হাসান রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার ছোট ভাই।
তবে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও সাহিদ হাসান কালবেলাকে বলেন, যেটি শোনা যাচ্ছে (মেয়র পদে নির্বাচন) তা এখনো ফাইনাল করিনি। পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো তো সময় আছে। নির্বাচন করলে সবাই জানতে পারবে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ও ভোটের প্রার্থী তৈরী করার জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকর্তারাই প্রস্তুত, অন্য কেউ না। তত্ত্বাবধায় সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই বিএনপি অনড়।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার কালবেলাকে বলেন, বিকল্প কিংবা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর বিষয়ে আমি জানি না এবং এটি আমার বোধগম্যও নয়। আমি এর আগেও বলেছি, নৌকার বাইরে আমি যাব না। যেখানে প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, তার পক্ষেই থাকব। তবে কে মেয়র প্রার্থী হবে, সেটি আমি বলতে পারব না।
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু কালবেলাকে বলেন, আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তারা আসন্ন ২০২৩ সালের নির্বাচনে লিটন ভাইয়ের বিপক্ষে মেয়র প্রার্থী হিসেবে একটা শক্ত মোর্চা তৈরির চেষ্টা করছে।
জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজশাহী মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাইরোন বলেন, ‘নৌকাকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু নেতা বরাবরের মতো এবারও উঠেপড়ে লেগেছে। যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, ভোটাররা সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার মধ্য দিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে।
আগামী ২৩ মে পর্যন্ত রাসিক নির্বাচনে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এরপর যাচাই-বাছাই হবে ২৫ মে। আর ১ জুনের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। আগামী ২১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৩টি রুমে ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *