রামেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায়  মৃত্যু -১৮, নতুন ভর্তি – ৭০ 

আবুল কালাম আজাদ,  রাজশাহী:- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই হাসপাতালে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃতদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৮ জন ও উপসর্গে ৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং চার জন নারী।
এদের মধ্যে আট জনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন ও ৪১ থেকে ৫০ বছরের দুইজন আছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। এ ছাড়া নওগাঁর তিন জন, নাটোরের দুই জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই জন এবং পাবনা ও কুষ্টিয়ার একজন করে আছেন।
করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীদের ভর্তি ও সংক্রমণের বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ জন। রামেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২২১ এবং সন্দেহভাজন ও উপসর্গ নিয়ে ২০২ জন ভর্তি আছেন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪৫৪টি করোনা ডেডিকেটেড  শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছেন ৪৮৫ জন।
এদিকে, করোনা শনাক্তের বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৩ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। দুই ল্যাবের টেস্টে মোট ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৪১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উঠেছে। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে রাজশাহীতে গত ১১ জুন থেকে বিশেষ লকডাউন চলমান আছে। রামেক হাসপাতালে এই সাতদিনে মোট ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *