রাজশাহীর “সিটি পশুহাটে “নেই স্বাস্থ্যবিধি

আবুল কালাম আজাদ (রাজশাহী):- বছর ঘুরে আবারও আসন্ন মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানী করবেন মানুষ। আর এ জন্য রাজশাহীতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুহাট। রাজশাহী মহানগরীর  উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘সিটিহাট’ নামে পরিচিত এই হাটে করোনাভীতি ভুলেই পশু কেনাবেচায় ব্যস্ত সবাই। স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাইনেই এই পশুহাটে।
করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশে ছড়িয়ে পড়ায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর লকডাউন অব্যহত রয়েছে।বারবার সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হলেও,সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই এই পশুহাটে। মাস্কও পরছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা।
১২ জুলাই রোববার নগরীর এই হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে কানায় কানায় লোকজনে ভর্তি। শুধু রাজশাহী মহানগরীর নয়, বিভিন্ন উপজেলা থেকেও গরুর মালিকরা গরু নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও। সিটি হাটের পুরো জায়গা জুড়ে শুধু গরু আর গরু। নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকেও ক্রেতারা ভীড় করছেন গরু কিনতে। দেশের নানাপ্রান্ত থেকেও এসেছেন বেপারীরাও। দামদরে মিলে গেলে গরু কিনছেন তারা।
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। বেশিরভাগ মানুষের মুখে ছিলোনা মাস্ক । আর মাস্ক থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই রেখেছেন থুতনিতে ঝুলিয়ে । পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার হ্যান্ড মাইকে মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। কিন্তু কারও সেই দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যে যার মত গরু কেনাবেচায় ব্যস্ত সবাই।
এখানে সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও বুধবার সাধারণ হাট বসে। তবে ঈদের জন্য রোববার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত একটানা হাট চলবে বলে জানিয়েছেন এই হাটের ইজারাদার।
 হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ঈদের তুলনায় এই ঈদে গরুর দাম তুলনামুলক বেশি। মাঝারি আকারের গরু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে বড় আকারে গরু কিনতে হলে ১ লাখ ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে এবার। তারও বড় গরুর দাম তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত।
পুঠিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমি গরু নিয়ে এসেছি দুইটা। গরুপ্রতি ৭০ হাজার টাকা চেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা বলেছে। তাই বিক্রি করছি না।
সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব না। যা হবার হবে। আমি দুইটা গরু এনেছি ওটা বিক্রি হলেই আমি খুশি। পবা থেকে এসেছিলেন জহুরুল হক। তিনি বলেন, যতদিন যাবে তত বেশি ভীড় হবে। তাই আজকেই কিনতে এলাম। দামে দরে মিলবে কিনে ফেলব।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি হাটের অন্যতম ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, আমরা বারবার মাইকিং করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলছি। মাস্ক ও স্যানিটাইজার আছে। যে কেউ চাইলেও নিতে পারবে।
হাটেই দায়িত্ব পালন করছিলেন নগরীর শাহ মখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মনি। তিনি বলেন, যা দেখছেন তাই, এই হাটের অবস্থা। আমরা অনেকজন এখানে কাজ করছি। যতটা সম্ভব সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক বলেন, আমাদের আজকে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা আছে। সেখানেই কোরবানির হাটের অবস্থা নিয়েও আলোচনা হবে। তারপরেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *