রাজশাহীর মোহনপুরে ফার্মেসীতে ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চরম উত্তোজনা

এম এম মামুন : রাজশাহীর মোহনপুরে করোনা ভাইরাস মাহমারিতে হঠ্যাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে সর্দি-কাশি জনিত রোগ। ওই সকল রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মোহনপুরে ফার্মেসী গুলোতে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওষুধের অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রতিনিয়ত ফার্মেসী মালিক ও ক্রেতার মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। ফার্মেসী মালিকেরা বলছেন সরবরাহ কম থাকায় তাদের বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ। ফলে প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
উপজেলা সদর মোহনপুর বাজার, কেশরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
মঙ্গলবার  (২২ জুন) সন্ধ্যার পর মোহনপুর বাজার জামে মসজিদ মার্কেটে ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে অাসেন উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন। তিনি জানান, এক পাতা প্যারাসিটামল ওষুধের দাম ১০ টাকা। তার কাছ থেকে ফার্মেসী মালিক দাম নেয় ৩০ টাকা। অতিরিক্ত  ২০ টাকা বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ফার্মেসী মালিক ও ক্রেতার মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম উত্তেজনা। এক পযার্য়ে স্থানীয় লোকজন এসে তা মিমাংসা করেন। একই বাজারের পান বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন, সোমবার এক পাতা প্যারাসিটামল ওই ফার্মেসীতে ক্রয় করতে গেলে তার কাছে দাম চাওয়া হয়েছিল ৩০ টাকা। পরে তিনি উপজেলা নিউ  মার্কেটে মাওলা ফার্মেসীতে গিয়ে ১০ টাকায় এক পাতা প্যারাসিটামল ক্রয় করেন । এছাড়া প্যারাসিটামল, নাপা, নাপা এক্সট্রা- ৫০০ এমজির এক পাতা যেটা আগে দাম ছিল ৮ টাকা এখন তা বিক্রিয় করা  হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ফেক্সোফেনাডিল গ্রুপের আগের দাম ৭৫ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মনটিন ১০ এমজি এক পাতার ছিল ২১০ টাকা। এখন নেয়া হচ্ছে ২৩০ টাকা। মনাস ১০ এমজি প্রতি বক্স দাম ছিল ৪১৫  টাকা। বতমানে বিক্রিয় করা হচ্ছে  ৪৮০ টাকায়।
মোহনপুর উপজেলা ফার্মেসি মালিক সমিতির সভাপতি অালহাজ্ব গোলাম মাওলা বলেন, কোন  ফার্মেসি মালিক ওষুধের দাম বেশি নিতে পারবেন না। যদি কেউ নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জান শহিদ বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে উপজেলার ফার্মেসিগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং রোগের মোকাবেলায় ওষুধ সংগ্রহের জন্য তারা ভিড় করছেন ওষুধের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বেশ কিছু রোগের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে বিভিন্ন স্থানে বাড়তি দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানওয়ার হোসেন বলেন, করোনা মহামারিতে কোন ফার্মেসী ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কার কাছ থেকে বেশি দাম নিতে পারবেন না। সেজন্য বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।  ওষুধের অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ পেলে ওই ফার্মেসী মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *