রাজশাহীর মোহনপুরে খাল দখল নিয়ে উত্তোজনা

মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ভীমনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর অালম নামের এক ব্যক্তির লীজকৃত খাল জোর করে দখল করতে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়ে সংঘর্ষে যুবলীগ নেতাসহ তিনজন অাহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভীমনগর গ্রামে।

অাজ শনিবার (১০ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ভীমনগর গ্রামের মৃত পিয়ার বক্সের ছেলে ও ধুরইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম ক্ষতার প্রভাব খাটিয়ে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন নিরহ মানুষের ভূমি দখল, মানুষের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছিল। একই গ্রামের বকুল ইসলাম বলেন, যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ । ক্ষমতার দাপটে মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতে থাকে।
খাল লীজকৃত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আশরাফুল আলম ধুরইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষতার প্রভাব খাটিয়ে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী সংঘবদ্ধ করে জমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের সাথে ঝামেলা করে থাকে। গত বুধবার আমার মাছ চাষকৃত খালে আশরাফুল আলমসহ তার ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে ভীমনগর মৌজায় অবস্থিত খাল জোরপূর্বক দখল করতে থাকে। ওই সময় গ্রামের সকল নারী-পুরুষ একজোট হয়ে দখলকারীদের ধাওয়া করলে এলোপাতাড়ি মারপিঠের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়।
ভীমনগর গ্রামের সোহেলা রানা জানান, জাহাঙ্গীর আলম খালটি উপজেলা ভূমি অফিস, মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও স্থানীয় জমির মালিকদের নিকট হতে লীজ নিয়ে ১০ বছর ধরে ৩০ বিঘা খালটিতে মাছ চাষ করে আসছিল। যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম ওই ৩০ বিঘা খালের মধ্যে মাত্র ৬৬ শতক জমি ভীমনগর গ্রামের মৃত মানিকুল্লার ছেলে মোঃ সমতুল্লাহের নিকট হতে নামমাত্র লীজ নেয়। গত বুধবার (৭ জুলাই) পুরো খালটি ৩৫/৪০ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে দখল করতে যান অাশরাফুল অালম। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন অাহত হন। অাহতরা হচ্ছেন ভীমনগর গ্রামের আশরাফুল আলম (৪৫), একই গ্রামের মৃত মানিকুল্লার ছেলে মোঃ সমতুল্লাহ (৫২) ও তার স্ত্রী শিরিন আকতার (৪৫)। বর্তমানে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ধুরইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম দীর্ঘদিন থেকে এলাকার অনেক নিরহ মানুষের উপর ক্ষমতার প্রভার খাটিয়ে জায়গা-জমি পুকুর দখলসহ  অত্যাচার করে আসছিল। আমি সহ এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ইতি পূর্বে এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিষয় বৈঠক করে তাকে সাবধান করা হয়। তারপরেও একের পর এক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুল ইসলাম বলেন , এখন পযন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *