রাজশাহীর মার্কেটেগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

আবুল কালাম আজাদ :-রাজশাহীর মহানগরীর মার্কেটেগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড়। কেউ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি।একটানা এক মাস চার দিনের লকডাউন শেষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে শিথিল লকডাউন বিরতি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ইদুল আজহাকে সামনে রেখে লকডাউন বিরতি দেয়া হয়েছে। এতে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ইদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনাও জমে উঠতে শুরু করেছে।
তবে ,যানবাহন ,রাস্তা বা মার্কেট কোন জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধির তেমন কোনগুরুত্ব নেই। অধিকাংশ মানুষের কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরছেন না। অনেকের মুখ থেকে নাকে ও থুতনি থাকছে মাস্ক। আবার অনেকেই হাতে নিয়েই ঘুরছেন।  এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোন তৎপরতা কিংবা সচেতনতামূলক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় নি।
লকডাউন শিথিলের সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসন ও যেন শিথিল হয়ে পড়েছে।
১৫ ও ১৬ জুলাই দুপুরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, নগরীজুড়ে আবারও কর্মচঞ্চলতা শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে গণপরিবহণ চলাচল। নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় ক্ষুদ্র যানজটও দেখা গেছে। খুলেছে শপিংমল ও দোকানপাট। এতে স্বস্থি প্রকাশ করছে যাত্রী, চালকসহ, ক্রেতা-বিক্রেতারাও।
ক্ষুদ্র যানবাহন অটো রিক্সা বা অটোতে যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। রিক্সায় দুজনে এর পরিবর্তে তিন থেকে চারজন আবার অটোতে ৪ শিটের পরিবর্তে ৬ থেকে ৭ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জানতে চাইলেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা। নগরীর কোর্ট বাইপাস এলাকায় পাঁচ জনের সিটে ৬ জন যাত্রী নিয়ে অরেকজন যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অটো রিকশা চালক। তার গাড়িতে দুইজন যাত্রী মাস্ক পরে ছিলেন। চালকসহ অন্যাদের মাস্ক নাকের নিচে ছিলো। নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে চাননি।
স্বাস্থ্যবিধি সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে অটো চলাচল বন্ধ ছিল।  কয় দিনপর ঈদ।
পরিবার নিয়ে ঈদ করতে হবে তাই ,একটু বাড়তি যাত্রী নিয়ে বাড়তি আয় করার জন্য বেশি যাত্রী নিচ্ছি।
 এছাড়া নগরীতে খুলেছে মার্কেট। ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।তবে এর ভিন্ন চিত্র আছে। শপিংমল ও আরডিএ মার্কেটের ভিতরের দোকানগুলোতে অনেকেও অলস সময় পার করতেও দেখা যায়। এদিন নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট, কাপড়পট্টি, গণকপাড়া, নিউ মার্কেট, কোর্ট বাজার এলাকায় বেশি মানুষের সমাগম দেখা গেছে। শপিংমালের চেয়ে বাইরের ফুটপাতের দোকানগুলোতেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন খুলেছে। সকাল থেকেই তারা দোকান খুলেছেন। কিন্তু ক্রেতা বলতে হাতেগোনা কয়েকটা। এখনো সেইভাবে মার্কেট জমে উঠেনি। এরমধ্যে অনেকে শুধু দেখছেন। অনেকে কেনা দামও বলছেন।
 তবে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ঠিক ভিন্ন। তারা বলছেন-করোনায় এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে। এরমধ্যে সন্তানদের বায়না মেটাতে বা দীর্ঘ দিন পোশাক কেনেনি একারণে বাজারে এসেছেন। কিন্তু বিক্রেতারা বেশি দাম চাচ্ছেন।
নগরীর বিলসিমলা এলাকা থেকে সাহেব বাজার এলাকায় বাজার করতে এসেছিলেন পারভীন খাতুন। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে অনেক দিন বাজারে আসেন নি তিনি। সামনে ইদ। ছোট একটা ছেলে ও একটা মেয়ে আছে।
তাদের জন্যই মূলত বাজারে আসা। সন্তানদের জন্যই কিছু কিনবেন। এবারের ইদে তিনি কিছু নেবেন না। কারণ তার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। আর ব্যবসায়ীরা একটু বেশি দাম চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি বলতে তিনি মাস্ক এনেছেন। তার সন্তানদের কাছেও মাস্ক আছে। ছোট্ট বাচ্চা তো তাই বোঝে না। মাস্ক খুলে রেখেছে। তিনি বাজারে আসলে মাস্ক ব্যবহার করেন।
আরডিএ মার্কেটের ফ্যাশান বাজার গার্মেন্টস দোকানিরেরা  জানান, এখনো বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি। ক্রেতা আসছে, দেখছে। অনেকে দাম না বলেই চলে যাচ্ছে। অনেকে কেনা দামও বলছে না। তবে তিনি আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠবে। আর স্বাস্থ্যবিধি বলতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা আছে।
এ বিষয়ে আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, কেবলমাত্র দোকানপাট খুললো , মার্কেটে কেনাবেচা ভালোই হচ্ছে। তবে এটা আরো বাড়বে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। এটা শুধু মার্কেটে না পুরো নগরীর চিত্রও এমন।
তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবসায়ীক নেতা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কমিটি করে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। যেটির তেমন কোন প্রতিফলন দেখেন নি। মার্কেটগুলোতে  প্রশাসনিক তৎপরতার চেয়ে সকলের নিজেরা নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। মার্কেট গুলোতে উপচে পড়া ভিড়ের মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা প্রশাসনের পক্ষে কোনদিনই সম্ভব নয়,
প্রয়োজন সকলের সচেতনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *