রাজশাহীতে নির্বাচন চলাকালে রামদার কোপে সাংবাদিকসহ আহত ৬

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ার দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন চলাকালিন সময়ে  নির্বাচনী এলাকায় অজ্ঞাত ‘হেলমেট বাহিনীর’ রামদার কোপে এক সাংবাদিকসহ পাঁচ ভোটার আহত হয়েছেন। এতে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। ভয়ে ভোটাররা যাচ্ছেন না কেন্দ্র।
আহতেরা হলেন সংবাদকর্মী ছদরুল ইসলাম, ভোটার আলাউদ্দীন, ফকরুল ইসলাম, আবু তাহের ও জামাল হোসেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় উপজেলার ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউপিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
আহত আলাউদ্দীন নামের একজন ভোটার বলেন, ‘ধোকড়াকুল কেন্দ্রে কাউকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অজ্ঞাত লোকজন রাস্তা থেকে ভোটারদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। পরে এ বিষয় আমরা চারজন ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে ওই লোকজন আমাদের কুপিয়ে আহত করেছেন। তাঁরা হেলমেট পরিহিত ছিলেন।’
অনলাইন সাংবাদিক ছদরুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় ভোটারদের আসতে বাধা ও মারধরের ছবি তুলতে গেলে হেলমেট পরিহিত ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি এসে আমাকে বাধা দেয়। এ সময় একজন রামদা দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।’
এদিকে স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকজন বুথে মধ্যে প্রভাব খাটাচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়গুলোতে হেলমেট পড়ে কিছু লোকজন অবস্থান করছেন। তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের বাধা দিচ্ছেন। প্রার্থীরা বলছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
ভালুকগাছি ইউপির স্বতন্ত্রপ্রার্থী একরামূল হক বলেন, ‘ভোর থেকেই ইউপির তেলিপাড়া, এসআরজি, ফুলবাড়ি, নন্দনপুরসহ পাঁচটি ভোটকেন্দ্র দখল নিয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থিত লোকজন। ভোটাররা কেন্দ্রে আসলেও তাঁরা ভয় দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীর মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হেলমেট বাহিনীর লোকজন ধাকেড়াকুল এলাকায় রামদা দিয়ে কুপিয়ে পাঁচজনকে আহত করেছেন। এ ঘটনার পর অনেক ভোটাররা ভয়ে আর আসছেন না কেন্দ্রে।’
শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আবু হায়াত বলেন, ‘এই ইউপির বেশির ভাগ কেন্দ্র আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন দখল করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত দলীয় লোকজন ছাড়া কাউকে কেন্দ্রে আসতে দিচ্ছে না। এর মধ্যে কেউ এলেও ভোটের বাটন টিপছেন তাঁদের লোকজন।’
তবে শিলমাড়িয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। যাঁরা কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলেছেন তা মিথ্যা।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়টি তদারকি করছি। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।’
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  সোহরাওয়াদী হোসেন বলেন, ‘সকালের দিকে নির্বাচনী এলাকার কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *