রাজশাহীতে জীবাশ্ম জ্বালানি ও বৈদেশিক দেনা বাতিলের দাবিতে মানবন্ধন

রাজশাহী প্রতিনিধি :- কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা করার জন্য জি-৭সহ ধনী দেশগুলোর ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ করে অবশ্যই স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো নাগরিক পরিষেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
১৩ জুন রোববার পরিবর্তন ও বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডাব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীর পবার বালিয়া এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের (জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও কানাডা) প্রদত্ত ঋণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাতিলের দাবিতে এ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদশের বৈদেশিক ঋণ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে জি-৭ অন্যতম। এসব দেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেরও প্রধান বিনিয়োগকারী। এসব দেশই আবার জি-৭ এর সদস্য। আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বিপদে ফেলে এসব ধনী দেশ মুনাফা ভোগ করছে।
মোট বৈদেশিক দেনার পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে যা দেশের বাজেটের সমান। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে এ বছরও বিদেশ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। এ বছর ঋণের সুদ হিসেবে ৫৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে যা মোট বাজেটের প্রায় ১০শতাংশ এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের চেয়েও বেশি। এছাড়া বৈদেশিক দেনার আসল ও সুদসহ পরিশোধ করতে হবে আরো ১৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক দেনা বাতিল করলে এ অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও ইতালি মাতারবাড়ি ও মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে।
বক্তারা জি-৭ভূক্ত দেশের নেতৃবৃন্দের কাছে অবিলম্বে বৈদেশিক দেনা বাতিল করে সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবা খাতে ব্যয় বাড়ানো, কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়াগ বন্ধ করা এবং ঐতিহাসিক দুষণের দায় স্বীকার করে দুর্যোগ-আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *