ভুয়া মৎস্যজীবীদের দখলে খাসপুকুর,  দখল নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে সংঘর্ষ

থানা ও আদালতে অর্ধ শতাধিক মামলা
——————————————————
রাজশাহী প্রতিনিধি : –রাজশাহীর বাগমারায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ শত খাস পুকুর। এই খাসপুকুরগুলোর দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই ঘটছে হামলা, মারামারি, সংঘর্ষ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। আর এসব ঘটনায় দায়ের করা হচ্ছে চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মামলা। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বাগমারা থানা ও আদালতে এ ধরনের প্রায় অর্ধশতাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর এলাকার সাড়ে ৮শ’ খাসপুকুর ইজারা নিতে সম্প্রতি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, প্রভাষক, চিকিৎসক, গ্রামপুলিশ ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কোটে এফিডেভিট করে নিজেদের পেশা পাল্টে মৎস্যজীবী হয়েছেন। কথিত এসব মৎস্যজীবীরা উপজেলার খাসপুকুরগুলো অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে এলাকার প্রকৃত মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদ করে দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন।
এতে করে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হওয়ায় দখলদারদের সাথে তাদের প্রতিদিনই ঘটছে দফায় দফায় হামলা, মারামারি, সংঘর্ষ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। আর এসব ঘটনায় দায়ের করা হচ্ছে চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মামলা। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 অভিযোগ রয়েছে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় থানা ও আদালতে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে এখন জেল-হাজতে রয়েছেন। আবার কেউ কেউ এসব মামলা থেকে বাঁচতে পুলিশকে দিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। তবে পুলিশের চাহিদা মতো কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকেই জেলে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাগমারা উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর এলাকার একটি দীঘিতে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষী মকসেদ আলী ও স্কুল মাষ্টার আক্কাছ আলীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হন এবং ৫ জন ব্যক্তি হাত, পা, নাক ও কান হারিয়ে পঙ্গু হয়ে গেছেন। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে লুট-পাট, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে ১৩ টি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার উভয় পক্ষের ১১ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে বিল দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সম্প্রতি বাসুপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে ‘হাতুড়ি’ বাহিনী এবং জাবের আলীর নেতৃত্বে ‘ঠ্যোঙ্গরা’ বাহিনীর মধ্যে সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলা, মারপিট ও সংঘর্ষে অন্তত: অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত ও চারজন পুঙ্গত্ববরণ করেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে থানা ও আদালতে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। মামলা দায়ের পর দুই বাহিনীর দুই প্রধানসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া নরদাশ ইউনিয়নের একটি খাসপুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে দখলদার আব্দুল কাদের ও গ্রামবাসীর মধ্যে সম্প্রতি দফায় দফায় মারামারি, সংঘর্ষ ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে থানা ও আদালতে এ পর্যন্ত ২৫টি পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রামের ১৩ জন কৃষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরদিকে সম্প্রতি বাগমারা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নরদাশ ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের একটি খাসপুকুর দখল নিয়ে মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন ‘হক’ বাহিনীর প্রায় ২০/২২ জন সন্ত্রাসী ক্যাডার গত ২৩ জুন রাত ৯ টার দিকে লাঠিশোটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মৎস্যচাষী জাবের আলী ও তার লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ‘হক’ বাহিনীর ২৬ জন এবং জাবের বাহিনীর ১৬ জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের পর পুলিশ উভয় পক্ষের ১৬ জনকে আটক করে।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাসপুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক আসামীকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *