বাঘায় ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্পে কাজে অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ !

বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘায় ৭ টি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের ৪০ দিনের কর্মসূচির চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকারের সেবামূলক কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসূচির প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অতিদরিদ্র মানুষ-জন কাজ পেয়ে কিছু অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। যার স-চিত্র লক্ষ করা গেছে বাঘা উপজেলার এ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকেরা হাজিরা না থাকলেও তাদের নাম ব্যবহার করে টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতিরা।
সকাল ১০ টায় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ নং বাজুবাঘা ইউনিয়নের চন্ডিপুর এলাকায় রাস্তার উপর থেকে টলিতে নামানো মাটি ফেলা হচ্ছে একজন শ্রমিক নেতার বাড়ির উঠনে। তার নাম আকবর হোসেন। এ খবর শুনে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমঙ্গীর হোসেনকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাৎক্ষনাত ১৩ জন শ্রমিককে ঐ গ্রামের গোরস্থানে আগাছা পরিস্কার করতে লাগিয়ে দেন।
এরপর সরেজমিন গিয়ে দেখা যাই, ঐ সকল শ্রমিকরা সামান্য কাজ করে বসে থেকে আয়েশ করছেন। এ সময় গনমাধ্যম কর্মী পরিচয়ে বসে থাকার কারণ এবং একজন শ্রমিকের বাড়ির উঠানে মাটি দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকার আমাদের কাজ দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু এই মজুরীর একটি অংশ প্রকল্পের সভাপতিকে ভাগ দেয়া লাগে। তাই আমরা নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করে থাকি।
অপর দিকে বাউসা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি ভাবে বরাদ্দ একটি ঘরের ভেতর মাটি ফেলার কাজ করছেন ৪০ জন শ্রমিক। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যাক্তি জানান, বর্তমানে অত্র এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় ধান কাটতে যাওয়ার কারনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের লেবার দিয়ে এ কাজটি করানো হচ্ছে। কিন্তু দু:খের বিষয় তারা দুই ঘন্টা কাজ করলে তিন ঘন্টা বসে সময় কাটায়। ঠিক এই অবস্থা উপজেলার বাঁকি ৫ টি ইউনিয়নে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ,যারা এই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত তারা কেউ ঠিকমতো কাজ করেনা। এসব শ্রমিকদের দিয়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট মেরামত ও উন্নয় করার কথা থাকলেও তারা বসে-বসে সময় পার করে। এদের দেখার কেউ নেই। ফলে সরকারের যে লক্ষ উদ্দেশ্য তা সম্পুর্ণ বিফলে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান-কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় বাঘা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের জন্য প্রতি ইউনিয়নে ৪০ জন করে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের কাজ হচ্ছে সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত । এদের মজুরী ২ শ টাকা। এরা রাস্তা সংস্কার ও মেরামত-সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নানা মুখি কাজ করে থাকেন ।
তবে গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামতের পাশাপাশি অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের প্রকল্প সভাপতির যোগসাজেশে ভিআইপি নামক ভুয়া শ্রমিকের নামে তুলনা হচ্ছে টাকা। এতে করে সরকারের মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। এলাকাবাসীর দাবি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ওইসব ভিআইপিদের তালিকায় নাম না দিয়ে প্রকৃত শ্রমিকদের নাম দিলে এরকম সমস্যা সৃষ্টি হতো না। ওইসব ভিআইপিদের খুঁজে বের করে তাদেও নামে বরাদ্দের উত্তোলনকৃত টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, এই প্রকল্পের অধিন যারা কাজ করেন-তাদের অধিকাংশ জনই বয়স্ক। তবে সরকারি কাজের বাইরে কাজ করার কোন সুযোগ নাই। আমি বাজুবাঘার চেয়ারম্যানের কাছে ১৩ জন শ্রমিকের তালিকা চেয়েছি। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *