বাঘায় শিক্ষার্থীর তাড়া খেয়ে পালিয়ে রক্ষা হয়নি শিক্ষকের

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় শিক্ষার্থীর তাড়া খেয়ে পালিয়ে রক্ষা হয়নি এক শিক্ষকের। শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষক অশালিন আচরন করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ বিষয়ে উপজেলা পানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রস্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল মঙ্গলবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অশালিন আচরন করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার পরের দিন ওই শিক্ষকের বিচার করা হবে, মর্মে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার বিচারে না বসার শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে দেখে তাড়া করে। প্রাণের ভয়ে শিক্ষক পালিয়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করেন। তাৎক্ষনিক তারা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালিন আচরন করেন শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষককে দেখা মাত্র তাড়া করে। এক পর্যায়ে শিক্ষক বাতরুমের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে বাতরুমের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষককে বের করে কিলঘুষি মারা হয়েছে। তবে এ সময় অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।
এ বিষয়ে ছাতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রস্থাগারিক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমি ক্লাসে সুন্দরভাবে একটি বিষয় নিয়ে উপস্থাপনা করছিলাম। এক শিক্ষার্থী ক্লাসে কোন খেয়াল করছেনা। আমি তাকে কয়েকবার ক্লাসে আন্তরিক হওয়ার জন্য বলি। তারপরও সে কোন আন্তরিক হচ্ছিল না। আমি তাকে একটি চড় মেরেছি। তারপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার চড় মারার বিচার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করে। পরের দিন বিদ্যালয়ে আসলে তারা একত্রি হয়ে তাড়া করে। আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বাধরুমে যায়। তারা বাধরুমের দরজা ভেঙ্গে মারপিট করে।
এ বিষয়ে ছাতরী উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক নারগিস খাতুন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশকে অবগত করি। তারা সাথে সাথে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের শান্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত টিমের রিপোট পেলে ব্যবস্থা নিব।