বাঘায় জামাত নেতা ও চার শিবির কর্মীকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ !

বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি :মহামারি করোনা সংকটের কারনে গত প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে এলাকা ভিত্তিক পাড়া-মহল্লায় চলছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের গোপন বৈঠক সহ দলকে সু-সংগঠিত রাখার তৎপরতা। এদিক থেকে পুর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে সক্রীয় হয়ে উঠেছে শিবির নেতা-কর্মীরা। এদের মধ্যে অনেকেই কতিপয় আ’লীগ নেতার আতœীয় হওয়ার সুবাদে থানায় আটক হওয়ার পরেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার এমনটি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাঘায়।
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২-এপ্রিল)বিকেলে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের পদধারী এক নেতার বাড়ির পাশে তারই চাচাতো ভাই জামাত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিল ১৫-২০ জন শিবির কর্মী। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘা থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শিবির কর্মীরা আনেককে পালিয়ে গেলো ও ৪ শিবির কর্মী ও এক জামাত নেতা জাহাঙ্গীরকে আটক করে পুলিশ।
অপর অটককৃত শিবির কর্মীরা হলো-আমোদপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৮), বানিয়া পাড়া গ্রামের মান্নান হোসেনের ছেলে আলী হাসান(১৫),একই গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে শাকিব হোসেন(১৪) ও সরের হাট গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন(২২)।
সূত্রে জানা গেছে, এসব আটক প্রত্যেক শিবির কর্মীর পিতা অথবা পরিবার জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে শিবির কর্মী নাজমুল হোসেন এবং জামাত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে নাশকতার মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে,বর্তমানে বাঘা উপজেলার আমোদপুর, বানিয়াপাড়া, মশিদপুর, খায়েরহাট, চকছাতারী,আড়ানী এবং মীরগঞ্জ এলাকায় জামাতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ২ হাজার নেতা-কর্মী রয়েছে। এদেরকে নির্দেশ দিলে যে কোন সময় বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চোরাগোপ্তা হামলা করবে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে রাজশাহী গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা এবং বাঘা থানা পুলিশের জনৈক সদস্য এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিবিরকর্মীরা তাদের নির্ধারিত মেসগুলোতে থাকছে না। এদের চার ভাগের-তিনভাগ এখন নিজ-নিজ এলাকায় এসে গোপনে রাজনীতি করার পাশা-পাশি দলকে সুসংগঠিত করছে। এরা সুযোগ পেলেই সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড-সহ দলের নেতা-কর্মীদের উপরে আঘাত হানা সহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে।
সূত্রটি জানান, এসব শিবির নেতাদের মধ্যে আনেকর আতœীয় স্বজন রয়েছে যারা আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। দেশের অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে পুলিশ কখনো-কখনো এদের আটক করার পরিকল্পনা করলেও সরকারী দলের কতিপয় নেতা কিছু সংক্ষক জামাত-শিবির নেতা কর্মীদের-না ধরার জন্য তদবির করে থাকেন। যার প্রমান মিলেছে শুক্রবার বাঘা উপজেলায়।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জওসি(তদন্ত)আব্দুল বারী বলেন, একজন জামাত নেতা সহ চারজন শিবির কর্মীকে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ পেয়ে আটক করে ছিলাম। তবে তাদের কাছে বিশেষ কোন আলামত না পাওয়ায় মুসলেকা নিয়ে রাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। #

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *