বাঘায় কোরবানি উপলক্ষে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

মোঃ লালন উদ্দীন,বাঘা রাজশাহী: আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশের বিত্তবান-সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ কোরবানির দিয়ে থাকেন । এ দিক থেকে রাজশাহী-6(চারঘাট বাঘার)সাংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম প্রতিবছর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে অসংখ্য পশু কোরবানি দিয়ে সমাজের গরিব দুখি-সহ এতিম খানা এবং আশ্রয়ন (গুচ্ছগ্রাম )বাসীদের মাঝে মাংস বিতরণ করে আসছেন। যা এবারও অব্যাহত থাকছে।
তবে এর সাথে এ বছর নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তাঁর মতে, ঈদ মানে আনান্দ। আর এ আনান্দ সবার সাথে ভাগা-ভাগি করা উচিত।সেই লক্ষে তিনি গত পাঁচ দিন পূর্বে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে অবস্থিত আশ্রয়ন(গুচ্ছগ্রাম) বাসীদের মাঝে ঈদ উপলক্ষে চাল,ডাল, আটা, চিনি, সয়াবিন ও লাচ্চা-সেমাই সহ নিজ হাতে বৃক্ষ রোপন করেন। তাঁর ইচ্ছে, প্রবিত্র ঈদুল আযহার দিন কেউ যেন ঈদের আনান্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। আর এ কথা চিন্তা করে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে নিজ হাতে কোররানির মাংস বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা।
আলেমদের মতে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর শর্ত সাপেক্ষে কোরবানি করা ওয়াজিব। এটি ইসলামের মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সব নবীর যুগেই কোরবানি পালিত হয়ে আসছে। কোরবানি’ শব্দটি আরবি ‘কুরব’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নৈকট্য বা সান্নিধ্য। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ করাই কোরবানি। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তাঁর নামে পশু জবেহ করাকে কোরবানি বলে।
এদিকে কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে ইসলামী ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও আলেমা একরাম গন বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর শুধুমাত্র একটি কোরবানি ওয়াজিব হয়। আবার অনেক সম্পদের মালিক হলেও একটি কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি একাধিক পশু কোরবানি করতে চান, তাহলে তিনি একাধিক সওয়াবের অধিকারী হবেন।
অপর দিকে কোনো নারী হিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিংবা বিত্তবান হলে তার উপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে। একান্নভুক্ত পরিবারের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির কাছে হিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তাদের প্রত্যেকের উপর ও ভিন্ন ভিন্ন কোরবানি ওয়াজিব।
এ বিষয়ে সমাজের অভিঙ্গ মহল ও সুধীজনদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, চারঘাট-বাঘার অহংকার ও উন্নয়নের রুপকার মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম প্রতিবছর পদ্মার চরাঞ্চল সহ তাঁর নির্বাচী দুই উপজেলা(চারঘাট-বাঘার) বিভিন্ন এলাকায় মানুষের পারিপার্ষিক অবস্থান বুঝে কোরবানি করে অশেষ সোয়াবের ভাগি হন ।

এবার নতুন করে যোগ হয়েছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। আমরা এ খবর শোনার পর আনান্দ বোধ করছি। তাঁদের মতে, আমাদের সমাজে অনেক ধনী মানুষ আছে। যদি সবাই এমনি ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে সমাজের অ-স্বচ্ছল মানুষ গুলোর দুঃখ লাঘব হবে এবং কোরবানির দিন একটি পরিবারও মাংস না পাওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *