বাঘার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রকে মারপিট

বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের বিরুদ্ধে একজন নারীর নামীয় ভিজিডির কার্ড অপর আরেকজনকে দেয়ার আভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের ছোট ভাই, দুই ছেলে এবং দুই ভাতিজা “মাসুদ রানা ’’ নামে এক বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়া এক ছাত্রকে মারপিট করা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত (৭-জুলাই) রাতে উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঐ ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।চিকিৎসারত অবস্থায় ঘটনার পরদিন ঐ ছাত্র বাঘা থানায় ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চকরাজাপুর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের রেখা খাতুন এর নামে চলতি ২০২১/২২ অর্থ বছরে অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে একটি ভিজিডি কার্ড হয়। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ঐ কাডটি আনোয়া বেগম নামের একজন দিয়েনে। এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন রেখা খাতুন। তিনি এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
গত ৮ জুলাই সকালে ঐ এলাকার বিশ্ব বিদ্যালয় পড়া ছাত্র মাসুদ রানা(২৩) উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে এসে উক্ত কার্ডের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান।
আর এই অভিযোগে চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ফরিদ আহাম্মেদ টিটু (৪৫) তাঁর ছেলে নাফিজ (২১) ও রাফিদ(২৩) এবং ভাতিজা প্রমিথ (২০) ও শাকিল(২০) মিলে রাত ৮ টার দিকে মাসুদ রানাকে মারপিট করে আহত করে। ঘটনার এক পর্যায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় মাসুদ রানা বাঘা থানায় একটি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, আমি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পংকজ দাসের কাছে একজনের নামীয় ভিজিডি কার্ড আরেকজন কেন ভোগ করবে এমনটি প্রশ্ন করে ছিলাম। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, অভিযোগকারি রেখা খাতুন মাতৃত্বকালিন কার্ডের সুবিধা নেন। এ কারনে চেয়ারম্যান পরবর্তী কার্ডটি আনোয়ারা নামে আরেক জন নারীকে দিয়েছেন।
চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, তার অঞ্চলের কিছু লোকজন বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে লেগেছে। এ কারনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বিদ্যালয় পড়–য়া ঐ ছেলে থানায় অভিযোগ করেছে। তিনি আরো বলেন ইউপির ভিজিডি কার্ড কমিটি মিটিংক করে রেখো খাতুনের নামে মাতুকালীন কার্ড থাকা ভুল বশত আবাও ভিজিডি কার্ডে তার নাম আসায় আনোয়া বেগম নামের আরেক নারী নামে ভিটিডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি আপোশ-মিমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি সেটি না হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *